অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার পেশা নিয়ে আজকের আলোচনা, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার ক্যারিয়ার : এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকৌশলের একটি প্রাথমিক ক্ষেত্র যা বিমান, মহাকাশযান এবং সংশ্লিষ্ট সিস্টেম এবং সরঞ্জামগুলির নকশা, উন্নয়ন, পরীক্ষা এবং উৎপাদনের সাথে সম্পর্কিত।
এধরনের প্রকৌশলীরা বায়ুমণ্ডলীয় এবং মহাকাশ ফ্লাইট সম্পর্কিত সমস্যাগুলি নিয়ে কাজ করে। এর প্রধান দুটি শাখা রয়েছে, অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অ্যাস্ট্রোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যে উড়োজাহাজের থিওরি, প্রযুক্তি এবং অনুশীলনের উপর বিশেষভাবে কাজ করে। অ্যাস্ট্রোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষ দৃষ্টি দেয় মহাকাশযান এবং মহাকাশে উৎক্ষেপণ প্রযুক্তি নিয়ে। টারশিয়ারী প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ খুব বেশি এগোতে না পারলেও বিমান বা উড়োজাহাজ চালনা ও প্রকৌশলের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়েছে গত কয়েক বছরে।
একজন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার কোথায় কাজ করেন?
সরকারি এয়ারলাইন্স বা যাত্রীবাহী বিমান সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে শুধুমাত্র বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সই একমাত্র সরকারি যাত্রীবাহী বিমান সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি এয়ারলাইন্স বা যাত্রীবাহী বিমান সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। যেমন – ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ লিমিটেড, নভোএয়ার লিমিটেড, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স প্রভৃতি। আমেরিকার শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৪ সালের তথ্য অনুসারে, সবচেয়ে বেশি মহাকাশ প্রকৌশলী নিয়োগকারী শিল্পগুলি হল:
- মহাকাশ পণ্য এবং যন্ত্রাংশ উত্পাদন: ৩৮%
- ইঞ্জিনিয়ারিং পরিষেবা: ১৪%
- ফেডারেল সরকার, ডাক পরিষেবা ব্যতীত: ১৩%
- শারীরিক, প্রকৌশল এবং জীবন বিজ্ঞানে গবেষণা ও উন্নয়ন: ১২%
- নেভিগেশনাল, পরিমাপ, ইলেক্ট্রোমেডিক্যাল এবং নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র উত্পাদন: ৫%
একজন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার কী ধরনের কাজ করেন?
মেইনটেন্যান্স বা রক্ষণাবেক্ষণঃ এক্ষেত্রে আপনাকে লাইন ও হেভি বেজ মেইনটেন্যান্স অথবা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে হয়। এক্ষেত্রে আপনাকে বিমানের সব ঠিক আছে কিনা তা দেখতে হয় এবং বিমান উড্ডয়নের জন্য উপযোগী কিনা তা নিশ্চিত করতে হয়। যদি বিমানের ইঞ্জিন অথবা কারিগরি কোন সমস্যা থাকে এক্ষেত্রে তা খুঁজে বের করার দায়িত্ব আপনার উপর অর্পিত থাকবে প্রোকিউরমেন্টঃ এক্ষেত্রে বিমান ক্রয় ও বিক্রয়ের বিষয়গুলো আপনাকে দেখাশোনা করতে হবে। কারিগরি বিষয়, ইঞ্জিন ক্রয় এবং বিমানের বিভিন্ন অংশ ক্রয়ের বিষয়ও এক্ষেত্রে আপনার হাতে ন্যস্ত থাকে।
একজন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?
শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ
আপনি যদি যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা বিমানচালনা প্রকৌশল বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রিপ্রাপ্ত হন তাহলে আপনি অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন প্রতিষ্ঠানগুলোতে।
যদি সিএএবি-তে আপনি পরিদর্শক হিসেবে কাজ করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই বিমান প্রকৌশলের বিভিন্ন বিষয়ে ৩ বছরের পূর্ব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হতে হবে। শিক্ষানবিশ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বিমান সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ পেতে হলে সাধারণত পূর্ব অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয় না। যদি বিমানচালনা প্রকৌশল অথবা রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে আপনার ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকে সেক্ষেত্রে আপনি বিমান মেকানিক বা নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন।
বয়সঃ
প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষে বয়সের সীমা নির্ধারিত হয়। সাধারণত তা ২৫ থেকে ৩৫ বছর।
অভিজ্ঞতাঃ
প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ
একজন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?
অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতে চাইলে বিষয়বহির্ভূত জ্ঞান খুব একটা প্রয়োজন হয় না। যেহেতু বিমান সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বেশ ব্যয়বহুল এবং স্পর্শকাতর তাই সবক্ষেত্রেই আপনাকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
বিমানের কোন ক্ষতির জন্য কোনভাবে যদি আপনি দায়ী হোন সেক্ষেত্রে আপনার বিরূদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে এবং তা শুধুমাত্র আপনার ক্যারিয়ারের উপর বিরূপ প্রভাবই ফেলবে না বরং কোন কোন ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার একেবারে ধ্বংসও করে দিতে পারে এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, বিমান সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগের জন্য একটি পরীক্ষা নেয় যেখানে আপনার বিমান প্রকৌশল বিষয়ের জ্ঞান পরীক্ষা ও যাচাই করা হয়। তাই বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান কম হলে চাকরিপ্রার্থীর ব্যর্থতা বেশ সাধারণ একটি ব্যাপার এক্ষেত্রে
একজন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারের মাসিক আয় কেমন?
অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারের মাসিক আয় কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ হলেও সাধারণত মাসিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন একজন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার। সিএএবি-তে কাজের ক্ষেত্রে মাসিক আয় সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে হয়। আমেরিকার শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, ২০১৪ সালের মে মাসে মহাকাশ প্রকৌশলীদের জন্য গড় বার্ষিক মজুরি ছিল ১,০৫,৩৮০ মার্কিন ডলার।
তারা যে শীর্ষ শিল্পগুলিতে কাজ করেছিল সেখানে মহাকাশ প্রকৌশলীদের গড় বার্ষিক মজুরি ছিল নিম্নরূপ: ফেডারেল সরকার (ডাক পরিষেবা ব্যতীত) = ১,১৩,৫৫০ মার্কিন ডলার নেভিগেশনাল, পরিমাপ, ইলেক্ট্রোমেডিক্যাল এবং নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র উত্পাদন = ১১১,৬৬০ মার্কিন ডলার শারীরিক, প্রকৌশল এবং জীবন বিজ্ঞানে গবেষণা ও উন্নয়ন = ১০৭,৪৯০ মার্কিন ডলার ইঞ্জিনিয়ারিং পরিষেবা = ১০৩,৪৫০ মার্কিন ডলার মহাকাশ পণ্য এবং যন্ত্রাংশ উত্পাদন = ১০২,৪৩০ মার্কিন ডলার
একজন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?
এক্ষেত্রে ক্যারিয়ারের গ্রাফ প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ। পদোন্নতি ও পদবিন্যাস প্রতিষ্ঠানের ধরন ও প্রতিষ্ঠানের আকারের উপর নির্ভর করে। তবে সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে একজন শিক্ষানবিশ ইঞ্জিনিয়ার লাইসেন্সপ্রাপ্ত মেইনটেন্যান্স অফিসার হতে পারেন।
আরও দেখুনঃ
2 thoughts on “অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার পেশা [ ক্যারিয়ার ক্যাটালগ ]”