আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী যাত্রীদের মধ্যে বাড়তি ভ্রমণচাহিদা দেখা দিলেও, ঈদের এখনও প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি থাকতে অভ্যন্তরীণ রুটের স্বল্পমূল্যের বিমানের টিকিটগুলো ইতোমধ্যেই বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। যাত্রীরা বলছেন, এখন যে কয়টি টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর মূল্য স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত।
বিভিন্ন যাত্রী অভিযোগ করেছেন, ঈদে বাড়ি ফেরা কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা থাকলেও তারা ন্যায্য দামে টিকিট পাচ্ছেন না। অনেকে বাধ্য হয়ে শেষ মুহূর্তে উচ্চমূল্যে টিকিট কিনে নিচ্ছেন, কেউ আবার যাত্রা বাতিল করার কথাও ভাবছেন।
ঈদযাত্রা শুরু হওয়ার আগেই আকাশপথের টিকিট শেষ
স্বল্পমূল্যের টিকিট এক মাস আগেই শেষ
এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে এবার অগ্রিম বুকিংয়ের চাপ ছিল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। তাই এক থেকে দেড় মাস আগেই অভ্যন্তরীণ রুটে স্বল্পমূল্যের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।
বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রুটে চারটি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করে—রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার ও নতুন সংযোজিত এয়ার অ্যাস্ট্রা। এসব এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্য যেমন—সৈয়দপুর, রাজশাহী, যশোর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও বরিশাল রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে।
বাড়তি দামে টিকিট বিক্রি, যাত্রীদের ক্ষোভ
সাধারণ সময়ে এসব রুটে বিমানের ন্যূনতম ভাড়া ৩,৪০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ প্রায় ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। কিন্তু এখন, একই ফ্লাইটের একই ক্লাসের আসনের জন্য যাত্রীদের ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, এয়ারলাইন্সগুলো ঈদকালীন যাত্রাকে কেন্দ্র করে ‘একচেটিয়া ব্যবসা’ করছে। তারা মনে করছেন, অধিক চাহিদার সুযোগে অতিরিক্ত লাভবান হওয়ার জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এয়ারলাইন্সগুলো।
ঢাকায় কর্মরত এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, “আমি ৩,৪০০ টাকায় টিকিট পেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এখন একই রুটে টিকিট কিনতে হচ্ছে প্রায় ৯ হাজার টাকায়। এভাবে প্রতি ঈদেই আমরা ঠকছি।”
জনগণের প্রত্যাশা—ভাড়ায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য
অনেক যাত্রীর অভিমত, যাত্রীচাহিদা বেড়ে গেলেও টিকিটের মূল্য যেন ন্যায্য ও পূর্বনির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে। এতে সাধারণ জনগণ যেমন উপকৃত হবে, তেমনি যাত্রী সন্তুষ্টির মাধ্যমে এয়ারলাইন্সগুলোর সুনাম ও যাত্রীসংখ্যাও বাড়বে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ভোক্তা অধিকার ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB)-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যাত্রীরা, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণ ও একচেটিয়া বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
2 thoughts on “ঈদযাত্রা শুরু হওয়ার আগেই আকাশপথের টিকিট শেষ ”