আজকের আলোচনার বিষয় অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন, ছোটবেলা থেকেই বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে স্বপ্ন থাকে ইঞ্জিনিয়ার হবার। তবে সব ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের মধ্যে অন্যতম বিষয় হলো অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। অনেকে হয়তো এই বিষয় সম্পর্কেই জানে না।

অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন
এ বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়তে পারলে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াতে পারবে এবং ছয় সংখ্যার স্যালারির জব পাবার সম্ভাবনা অনেক। কর্মক্ষেত্রে এর কাজের পরিধি অনেক। তুমি ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কাজ করতে পারবে। এ ছাড়াও উড়োজাহাজ তৈরি কোম্পানী, গবেষণা কেন্দ্র ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে যুক্ত হয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
কীভাবে শুরু করবে
অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সাধারণত এসএসসি কিংবা এইচএসসি পাসের পর শুরু করতে পারবে। অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সাধারণত দুইটি ভাগে বিভক্ত যেমন: অ্যারোস্পেস এবং এভিওনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং। তবে এর মধ্যে যেকোনো একটি বিভাগ নিয়ে পড়তে হবে। যেই বিভাগেই পড় না কেন তোমার তিন থেকে পাঁচ বছর লেগে যাবে । আর দুই কিংবা এক বছর লাগবে মাস্টার্স করতে। তবে বাংলাদেশে কিছু ইউনিভার্সিটি কেবল ব্যাচেলর ডিগ্রি দিয়ে থাকে কিন্তু তুমি যদি মাস্টার্স করতে চাও সে ক্ষেত্রে দেশের বাইরে যেতে হবে। তবে জেনে রাখা ভালো, এ বিষয়ে পড়াশোনা করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। যা অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় অনেক ব্যয়বহুল।

দেশের বাইরে পড়ালেখার জন্য IELTS পরীক্ষায় মিনিমাম ৬ কিংবা এর চেয়ে বেশি স্কোর লাগতে পারে। তবে তা নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর। এয়ারক্রাফ্ট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিং লাইসেন্স অনেক গুরুত্বপূর্ণ যারা মেইনটেন্যান্সে যায় । তবে এ বিষয় সম্পর্কে অনেকের সঠিক ধারণা না থাকার কারণে লাইসেন্স এবং আশানুরূপ বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে দেরি হয়। তাই এ বিষয়ে সঠিক ধারণা জরুরি।
পুরো পৃথিবীতে এয়ারলাইন্স নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে উৎপাদক কোম্পানির নিয়ম এবং যাত্রী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা আইন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি আর CAA চলে নির্দিষ্ট আইন ও নিয়ম অনুযায়ী । বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন ফলো করে ইউরোপিয়ান এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি।
এয়ারক্রাফ্ট মেইনটেনেন্স লাইসেন্স অর্জন করতে তোমাকে সিভিল এভিয়েশনের অধীনে পরীক্ষা। দিতে হবে। এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ১৩টি সাবজেক্ট এবং এভিওনিক্স ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ১২টি পরীক্ষা দিতে হয়। প্রতিটি পরীক্ষায় পাস করতে সর্বনিম্ন ৭৫ শতাংশ নম্বর পেতে হবে এবং এরোস্পেস এবং এভিওনিক্স বিভাগের ১০টি সাবজেক্ট একই হওয়ায় তুমি চাইলে দুই বিষয়ের ওপর ধীরে ধীরে পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স অর্জন করতে পারবে
এখন কেউ যদি অন্য বিষয়ের ওপর পড়াশোনা করে থাকে কিংবা করছে সে যদি এভিয়েশন সেক্টরে আসতে চায় তাহলে ইলেকট্রিক্যালে আসতে পারবে, আবার যদি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করে থাকে তাহলে সিভিল এভিয়েশনের অধীনে পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স করতে পারবে অথবা এইচএসসি পাস করে থাকে তারাও এই লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা দিতে পারবে।
EASA PART-66
EASA লাইসেন্স প্রক্রিয়ার সাথে অনেকেই পরিচিত নয়। এটি হলো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কমিশন রেগুলেশন EC2042 / 2003 এর ANNEXIII যেখানে এয়ারক্রাফ্ট মেইনটেন্যান্স সংক্রান্ত মেকানিক, টেকনিশিয়ান এবং ইঞ্জিনিয়ারদের লাইসেন্স অর্জনের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স সম্পর্কিত সব আলোচনা রয়েছে।
জেনে রাখা ভালো, EASA কখনোই নিজে PART-66 এর অধীনে লাইসেন্স ইস্যু করে না। সদস্য দলগুলো তাদের নিজেদের বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে PART-66 মেনে লাইসেন্স ইস্যু করে, যা বাকি সদস্য দেশগুলোতেও স্বীকৃতি পায়। এই লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছর হলেই আবেদন করতে পারবে।
এবার জানা যাক কিছু বিষয়: EASA PART 145 মেইনটেন্যান্স প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন-সংক্রান্ত পাৰ্ট EASA PART 147 মেইনটেন্যান্স-সংক্রান্ত পার্ট তবে EASA PART-66 এর রয়েছে কয়েকটি লাইসেন্স ক্যাটাগরি।

যেমন:
Catagory: A
- A1 Aeroplane Turbine
- A2. Aeroplane Piston
- A3. Helicopter Turbine
- A4. Helicopter Piston
Catagory: B1
- B.1 1 Aeroplane Turbine
- B.1.2: Aeroplane Piston
- B.1.3. Helicopter Turbine
- B.1.4. Helecopter Piston
Category: B2
Category: C
অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হওয়ার আগে অবশ্যই সব বিষয় বিস্তারিত জেনে নিতে হবে । অন্যথায় অনেক কিছুই অজানাই থেকে যাবে ।
1 thought on “অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন”