উড়োজাহাজের ইলেকট্রিক সিস্টেম

উড়োজাহাজের ইলেকট্রিক সিস্টেম নিয়ে আজকের আলোচনা,  এয়ারক্রাফ্টে ইলেকট্রিক সিস্টেমের উপাদানগুলো বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিতরণ, ব্যবহার এবং স্টোর করে ইলেকট্রিক্যাল এনার্জি তৈরি করে।

 

উড়োজাহাজের ইলেকট্রিক সিস্টেম

 

উড়োজাহাজের ইলেকট্রিক সিস্টেম

 

এয়ারক্রাফ্টে দুই ধরনের বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়:

• এসি

• ডিসি

এসি এবং ডিসি বিদ্যুৎ

১. জেনারেটর

২. এপিইউ

৩. ব্যাটারি

৪. ইনভার্টার

৫ ফিউজ ও সার্কিট ব্রেকার

৬. বিদ্যুৎ বাস

৭. সিএসডি

৮ ট্রান্সফরমার রেক্টিফায়ার ইউনিট

৯. রিলে

 

উড়োজাহাজের ইলেকট্রিক সিস্টেম

 

এসি বিদ্যুৎ

এসি বিদ্যুতের ফুল ফর্ম হলো আলটারনেটিং বিদ্যুৎ। এসি কারেন্ট মাল্টি ইঞ্জিন, উচ্চ পারফরম্যান্স চালিত উড়োজাহাজ, বাণিজ্যিক উড়োজাহাজসহ অন্য সব উড়োজাহাজেও ব্যবহার করা হয়। যা ইঞ্জিনচালিত জেনারেটর দ্বারা তৈরি এর সর্বোচ্চ ভোল্টেজ-১৫৫ ভোল্ট এবং ফ্রিকোয়েন্সি ৪০০ হার্টজ।

উড়োজাহাজের এসি বিদ্যুৎকে ট্রান্সফরমার এবং রেক্টিফায়ার ইউনিট দ্বারা ডিসি বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়। ডিসি বিদ্যুতের ভোল্টেজের পরিমাণ ২৮ ভোল্ট । উড়োজাহাজে জরুরি অবস্থায় ব্যবহারের জন্য ২৮ ভোল্টের নিকেল ক্যাডমিয়াম ব্যাটারি থাকে ।

ইমারজেন্সি ইলেকট্রিক পাওয়ার

বহু বছর ধরে স্টোরেজ ব্যাটারি ছিল জরুরি বৈদ্যুতিক শক্তির একমাত্র উৎস। সাম্প্রতিক এভিওনিক্স সরঞ্জামের অগ্রগতির কারণে জরুরি বৈদ্যুতিক লোডগুলো স্টোরেজ ব্যাটারির সক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। এ ছাড়াও এর উচ্চ ক্ষয়কারী ইলেকট্রোলাইটসহ উড়োজাহাজের স্টোরেজ ব্যাটারি নির্ভুল সরঞ্জামগুলোকে ক্ষতি করে । এ কারণে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য রয়েছে নতুন পদ্ধতি।

ইমারজেন্সি পাওয়ার জেনারেটর

অনেক জেট উড়োজাহাজের রয়েছে জরুরি জেনারেটর ব্যবস্থা। যখন প্রধান ইলেকট্রিক পাওয়ার জেনারেটর ফেল করে তখন ইমারজেন্সি পাওয়ার জেনারেটর বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ করে। কিছু উড়োজাহাজের বাইর থেকে জুরুরি বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ করে । যখন প্রয়োজন হয় পাইলট লিভার অপারেট করে তখন এয়ার। ফ্লোতে আটকে যায়। বায়ুপ্রবাহের র‍্যাম এয়ার এফেক্টটি টারবাইনের টার্নিং পাওয়ার সরবরাহ করে । আর টারবাইন জেনারেটরের আর্মচারটি ঘোরায়, যা বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপাদন করে।

জেনারেটর

জেনারেটর উৎপাদন করে ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার যখন উড়োজাহাজের ব্যাটারি সম্পূর্ণ ডিসচার্জ । কারণ, জেনারেটর তার আউটপুটের একটি অংশ তারের মাধ্যমে চৌম্বকীয় ক্ষেত্র মিথস্ক্রিয়া থেকে শক্তি উৎপাদন করে। আমরা সহজ ভাষায় বলতে পারি, জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।

উড়োজাহাজে জেনারেটরের সংখ্যা নির্ভর করে ইঞ্জিনের ওপর, সাধারণত ইঞ্জিন যতগুলো হয় ঠিক ততগুলো জেনারেটর থাকে। বর্তমানে তোমরা যেই আধুনিক উড়োজাহাজ দেখছ এর ইঞ্জিনে গিয়ারচালিত এসি জেনারেটর ব্যবহার করা হয়। এর ভোল্টেজ সাধারণত ১১৫ থেকে ২০০ হয়ে থাকে এবং ফ্রিকোয়েন্সি থাকে ৪০০ হার্টজ। জেনারেটর থেকে উৎপাদিত শক্তি আলো, তাপ উৎপাদনে, যোগাযোগের জন্য, নেভিগেশন, অটোপাইলট, ডিসি ইন্সট্রুমেন্ট, গেলি এ ছাড়া আরও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হয়।

 

উড়োজাহাজের ইলেকট্রিক সিস্টেম

 

বাসবার

যেই নির্দিষ্ট পয়েন্ট থেকে উড়োজাহাজের বিভিন্ন দিকে বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ করা হয়, তাকে বাসবার বা সংযোগ কেন্দ্রস্থল বলে।

যেমন:

১. এসি বাস

২. ডিসি বাস

৩. ইমারজেন্সি বাস

৪. ব্যাটারি বাস

৫ অলটারনেটিং বাস, একটি নির্দিষ্ট স্থানে সংযোগ থাকে ।

ব্যাটারি

উড়োজাহাজের ইমারজেন্সি বা সর্বশেষ শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উড়োজাহাজে ১৪ ভোল্টের দুইটি নিকেল ক্যাডমিয়াম বা লিথিয়াম কোবাল্ট অক্সাইডের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। এই ব্যাটারির শক্তি ইমারজেন্সি লাইট, ইনভার্টার চালানো, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র চালানো এবং এপিইউ চালানোর জন্য ব্যাটারির শক্তি ব্যবহার করা হয়।

 

উড়োজাহাজের ইলেকট্রিক সিস্টেম

 

এপিইউ

উড়োজাহাজ অবতরণের পর সহায়ক শক্তি হিসেবে অক্সিলারি পাওয়ার ইউনিট কাজ করে। উড়োজাহাজের মূল ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এটি নিজেই উড়োজাহাজে বৈদ্যুতিক শক্তি প্রদান করে। এ ছাড়াও শীততাপ নিয়ন্ত্রণ ও ইঞ্জিন পুনরায় চালু রাখে। এপিইউ উড়োজাহাজের পেছনের অংশে থাকে।

ইনভার্টার

ইনভার্টার একটি বৈদ্যুতিক ডিভাইস যা ডিসি বিদ্যুৎকে অলটারনেটিং বিদ্যুতে কনভার্ট করে। রূপান্তরিত এসি বিদ্যুতে প্রয়োজন হতে পারে ভোল্টেজ এবং ফ্রিকোয়েন্সি, কারণ উপযুক্ত ট্রান্সফরমার সুইচ এবং সার্কিট নিয়ন্ত্রণের জন্য। উড়োজাহাজে এমন কিছু ইন্সট্রুমেন্ট আছে, যা সঠিক মানের বিদ্যুৎ ১১৫ ভোল্ট, এসি ৪০০ হার্জ বা ২৬ ভোল্ট এসি ৪০০ হার্জ এক ফেইজ বা তিন ফেইজ বিদ্যুৎ দ্বারা চালিত। এ জন্য ডিসি বিদ্যুৎকে সম্পূর্ণ একই মানের এসি বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ইনভার্টার রয়েছে।

১. রোটারি (Rotary)

২. ইস্ট্যাটিক (Static)

ট্রান্সফরমার রেক্টিফায়ার ইউনিট (টিআরইউ)

কমবাইন ফাংশন যা ট্রান্সফরমার এবং রেক্টিফায়ারের একটি ইউনিটে থাকে। ট্রান্সফরমার রেক্টিফায়ার ইউনিট এসি বিদ্যুৎ থেকে ডিসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে এবং টিআরইউ ১২০ ভোল্ট এসিকে কনভার্ট করে ইঞ্জিন দ্বারা শক্তি উৎপন্ন করে, এবং গ্রাউন্ড পাওয়ার ইউনিট ২৮ ভোল্ট ডিসি পাওয়ার সরবরাহ করে উড়োজাহাজের বিভিন্ন কমপোনেন্ট চালু রাখার জন্য । যেমন: ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, ব্যাটারি চার্জ, রিলে এবং সলোনাইড ভালভ ।

ফিউজ এবং সার্কিট ব্রেকার

ফিউজ খুব ছোট যা গলে যায় এবং বিদ্যুতের ফ্লো আলাদা করার জন্য ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুতের চাপ এবং অধিক পরিমাণে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে ফিউজের ভেতরের সূক্ষ্ম তার গলে গিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্ন ঘটায়। যার ফলে যন্ত্রপাতি বা সার্কিট নষ্ট হয় না। ঠিক একই পদ্ধতিতে অটোমেটিকেলি কাজ করে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সুইচ । যখন অতিরিক্ত লোড হয় তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিভাইসটি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় । যার ফলে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে না।

সিএসডি

সিএসডি জেনারেটরের ভোল্টেজ ও ফ্রিকোয়েন্সির মান সঠিক রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। তাহলে আমরা বলতে পারি জেনারেটরের ঘূর্ণন গতিকে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখার জন্য এটি ব্যবহার হয় কিন্তু বর্তমানে আধুনিক উড়োজাহাজে ব্যবহার করা হয় না, কারণ জেনারেটর সরাসরি ইঞ্জিনের গিয়ারের সাথে যুক্ত থাকে।

রিলে

রিলে দূর থেকে বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। পাইলট ককপিট থেকে সুইচ অপারেট করলে রিলে বিদ্যুৎ প্রবাহ বিভিন্ন সিস্টেমে প্রয়োজন অনুযায়ী সংযোগ প্রধান বা বিচ্ছিন্ন করে। এভাবেই কাজ করে রিলে, যা বৈদ্যুতিক সংকেতের ভিত্তিতে কাজ করে ।

আরও দেখুনঃ

1 thought on “উড়োজাহাজের ইলেকট্রিক সিস্টেম”

Leave a Comment