উড়োজাহাজের ইঞ্জিন

উড়োজাহাজের ইঞ্জিন নিয়ে আজকের আলোচনা, ইঞ্জিন তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে আর এই কারণে তৈরি হয় থ্রাস্ট, আর থ্রাস্ট উড়োজাহাজ উড়তে সহায়তা করে ।

উড়োজাহাজের ইঞ্জিন

 

Table of Contents

উড়োজাহাজের ইঞ্জিন

ইঞ্জিন প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত ।

১. পিস্টন ইঞ্জিন (Piston Engine)

২. জেট ইঞ্জিন (Jet Engine)

পিস্টন ইঞ্জিন

পিস্টন ইঞ্জিনকে রেসিপোকেটিন বা আন্তদহ (ইন্টারনাল কমবারসন) ইঞ্জিন বলা হয়। পিস্টন ইঞ্জিনে পিস্টন, সিলিন্ডার, ক্রাঙ্কস্যাফট, প্রপেলার ও কানেকটিং রড থাকে, যা চারটি স্ট্রোকের মাধ্যমে শক্তি তৈরি করে। সংযোগকারী রডের সাথে পিস্টন সংযুক্ত থাকে।

যা ঘুরেফিরে ক্রাঙ্কস্যাফট সাথে সংযুক্ত থাকে। ক্রাঙ্কস্যাফট প্রপেলার ঘুরিয়ে উড়োজাহাজের খ্রাস্ট তৈরি করে। পিস্টন ইঞ্জিন ছোট আকারের উড়োজাহাজে ব্যবহার হয় কিন্তু বড় উড়োজাহাজে ব্যবহার করা হয় না। কারণ এটি জেট ইঞ্জিনের তুলনায় অনেক ভারী, শক্তি কম, কম দূরত্বে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয় কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণে খরচ বেশি ।

 

উড়োজাহাজের ইঞ্জিন

 

পিস্টন ইঞ্জিনসমূহ

১. ইনলাইন ইঞ্জিন

২. রোটারি ইঞ্জিন

৩. ডি-টাইপ ইঞ্জিন

৪. রেডিয়াল ইঞ্জিন

৫ হরিজন্টাল ইঞ্জিন

ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিনের শক্তি তৈরি প্রক্রিয়া

ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিনে চারটি সাইকেল রয়েছে। ইনটেক, কমপ্রেসার, পাওয়ার এবং একজস্ট

ইনটেক

এয়ার এবং ফুয়েল মিশ্রণ হয় ।

কম্প্রেসর

এয়ার এবং ফুয়েল ঘনীভূত করা হয়।

পাওয়ার

প্রচণ্ড প্রেসারে স্পার্ক প্লাগে আগুন তৈরি হয়।

একজস্ট

পিস্টন গ্যাসকে বের করে দেয়।

 

উড়োজাহাজের ইঞ্জিন

 

জেট ইঞ্জিন

জেট ইঞ্জিন এমন একটি যন্ত্র, যা তরল জ্বালানিকে শক্তিশালী ঠেলাশক্তিতে (প্রাস্ট) রূপান্তর করে । এর মাধ্যমে জেট ইঞ্জিনে নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রতীয়মান হচ্ছে উড়োজাহাজকে সামনের দিকে যাওয়ার বল হচ্ছে গ্রান্ট আর এভাবেই গ্রাস্ট তৈরি হয়।

বেলুনে বাতাস ঢুকিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে নিলে তা স্থিতাবস্থায় থাকে। এর কারণ হলো বাতাসের চাপ বেলুনের চতুর্দিকে সমভাবে পড়ে। এরপর যদি বেলুনটির মুখ খুলে দেওয়া হয় তাহলে দেখা যাবে দ্রুতগতিতে বাতাস নির্গতের বিপরীত দিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দূরে চলে যায় । যা নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রতীয়মান হয় এবং অনুরূপভাবে উড়োজাহাজের জেট ইঞ্জিনের পেছনের দিকে দ্রুতগতিতে বাতাস জেট আকারে বের হয় । যা বায়ুমণ্ডলের বাতাসকে ধাক্কা দেয়, এর ফলে উড়োজাহাজ সামনের দিকে যায়।

কীভাবে জেট ইঞ্জিন ইস্টার্ট হয়?

ইলেকট্রিক মোটর ঘুরে মেইন শ্যাফটের সাথে যতক্ষণ পর্যন্ত যথেষ্ট পরিমাণ গরম বাতাস কমপ্রেসার ও কমবারসন চেম্বার ইঞ্জিনকে প্রজ্বলিত করছে এবং যখন ফুয়েল প্রবাহিত হয় তখন স্পার্ক প্লাগ ফুয়েল আগুন ধরিয়ে দেয়। যার ফলে ফুয়েল বেশি প্রবাহিত হয় আর কম্প্রেসার বাতাসকে ঘনীভূত করে জ্বালানি তেল স্প্রে করে প্রজ্বলিত করে। এর ফলে বাতাসের চাপ বেড়ে পেছনের দিকে টারবাইনের মধ্যে দিয়ে জেট আকারে নির্গমন হয়। জেট যখন টারবাইনের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন টারবাইন ঘুরে এবং শ্যাফটও ঘুরতে থাকে, আর শ্যাফটের সাথে সংযুক্ত কম্প্রেসার ও ঘুরতে থাকে। এভাবেই ইঞ্জিন চালু হয়। উল্লেখ্য জ্বালানি তেল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত জেট ইঞ্জিন চলতে থাকে ।

কীভাবে জেট তৈরি হয়?

জেট ইঞ্জিন এমন একটি যন্ত্র যা বাতাসকে ইঞ্জিনের ভেতরে নিয়ে ঘনীভূত করে এবং ঘনীভূত বাতাসের সাথে জ্বালানি তেল মিশ্রিত ও প্রজ্বলিত করে বায়ুর চাপ বৃদ্ধি পায় এবং ইঞ্জিনের পেছনের দিক দিয়ে দ্রুত আকারে বের হয়ে জেট তৈরি হয় ।

জেট ইঞ্জিন প্রধানত তিন প্রকার

১. রকেট জেট ইঞ্জিন

২. গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিন

৩. রেম জেট ইঞ্জি

গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিন তিন প্রকার

১. টার্বোজেট ইঞ্জিন

২ টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন

৩. টার্বোফ্যান ইঞ্জিন

রেম জেট এক প্রকার

১. পালস জেট ইঞ্জিন

প্রতিটি ইঞ্জিনের শ্রেণিবিভাগ তার সাইজ, ইনপুট, আউটপুট এবং মডেলের ওপর নির্ভর করে।

 

উড়োজাহাজের ইঞ্জিন

 

 

জেট ইঞ্জিনের আর পি.এম?

বড় ধরনের জেট ইঞ্জিনের অপারেট হয় ১০,০০০-২৫,০০০ আর পি এম যখন মাইক্রো টারবাইন ঘুরে ৫,০০,০০০ আর পি.এম

জেট ইঞ্জিনের মেইন পার্টস?

জেট ইঞ্জিন দুই অংশে বিভক্ত একটি হলো কোল্ড সেকশন আর অপরটি হট সেকশন।

কোল্ড সেকশন

১. এয়ার ইনলেট

২. কম্প্রেসার

হট সেকশন তিন ভাগে বিভক্ত

১. কমবারসন চেম্বার

২. টারবাইন

৩. একজস্ট

জেট ইঞ্জিন এবং রকেট জেট ইঞ্জিনের মাঝে পার্থক্য

ছোট ইঞ্জিন এবং রকেট জেট- ইঞ্জিনের মাঝে রয়েছে পার্থক্য যেমন:

• জেট ইঞ্জিন জ্বালানি ও বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন নিয়ে জেট তৈরি করে। অপরদিকে রকেট জেট ইঞ্জিন নিজেই বহন করে নিয়ে যায় অক্সিজেন ও তরল জ্বালানি জেট তৈরি করার জন্য ।

• আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, জেট- ইঞ্জিনের দুইটি ওপেনিং থাকে অপরদিকে রকেট জেট- ইঞ্জিনের কেবল একটি ওপেনিং থাকে, যা হলো একজষ্ট/ নজেল।

রকেট জেট ইঞ্জিন

রকেট জেট ইঞ্জিন সাধারণত ব্যবহার করা হয় পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজে যেমন: মিসাইল পাঠানোর ক্ষেত্রে এবং মহাশূন্যগামী উড়োজাহাজ পাঠানোর জন্য। রকেট জেট ইঞ্জিন স্বল্পসময়ের জন্য খুব শক্তিশালী থ্রাস্ট তৈরি করে এবং এটি নিজেই তরল জ্বালানি ও অক্সিজেন সংরক্ষণ করে জেট তৈরি করার জন্য ।

রকেট জেট ইঞ্জিনের কার্যপ্রণালি

রকেট জেট ইঞ্জিন ছয়টি অংশে ভাগ করা হয়েছে। যেমন: ফুয়েল, অস্কিডাইজার, পাম্প, কমবারসন চেম্বার, নজেল এবং একজস্ট। ফুয়েল সিলিন্ডার একটি পাইপের মাধ্যমে পাম্পের সাথে সংযুক্ত থাকে ঠিক তেমনিভাবে অক্সিডাইজার ওপর পাম্পের সাথে সংযুক্ত থাকে আর পাম্প দুইটি কমবারসন চেম্বারের সাথে যুক্ত থাকে এবং কমবারসন চেম্বারের সাথে নজেল ও একজস্ট।

 

উড়োজাহাজের ইঞ্জিন

 

রেম জেট ইঞ্জিন

রেম জেট ইঞ্জিন কোনো উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয় না। ইঞ্জিনের সম্মুখে হাই বলিওম প্রেসার তৈরি করে ইঞ্জিনের ভেতর প্রবেশ করানো হয় এবং জ্বালানি ছিটিয়ে প্রজ্বলিত করে বাতাসের চাপ বহুগুণে বেড়ে নজেলের ভেতর দিয়ে সুপারসনিক (Supersonic) গতিতে বের হয়ে যায়।

রেম জেট ইঞ্জিন খুব ইফসিয়েন্টলি সুপারসনিক স্পিডে গ্রান্ট তৈরি করতে পারে। এ ধরনের ইঞ্জিন মেক ৬ পর্যন্ত অপারেট করা যায়।

ইঞ্জিন অংশ

১. ইনলেট

২ ফুয়েল ইনজেক্টর

৩. ফ্রেম হোল্ডার

8. নজেল

পালস জেট ইঞ্জিন

পালস জেট ইঞ্জিন একধরনের জেট ইঞ্জিন, যার কমবারসন হয় পালসে। এটি বেশির ভাগ সামরিক উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের ইঞ্জিন খুব মজবুত, ভারী এবং ব্যয়বহুল। পালস জেট ইঞ্জিনের কম্প্রেসর দ্বারা ভেতরের বাতাস টেনে এনে প্রজ্বলন স্থানে জ্বালানি ছিটিয়ে প্রজ্বলন করে যার ফলে বাতাসের চাপ বহু গুণে বেড়ে যায় এবং পেছনের নজেল দিয়ে প্রচণ্ড বেগে থ্রাস্ট উৎপন্ন করে। পালস জেট -ইঞ্জিনের গতির রেকর্ড ২০০ মাইল পার আওয়ার ।

কেন পালস জেট ইঞ্জিন প্রয়োজন?

১. হিটিং সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

২ টারবাইন চালানোর জন্যও ব্যবহার করা যায়।

৩. পরিবহনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে ।

পালস জেট ইঞ্জিনের সুবিধাসমূহ

১. নিম্ন প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি হয়?

২. এটি যেকোনো জ্বালানি দিয়ে চালানো যায়।

৩. জ্বালানি খুব দক্ষতার সাথে পোড়ানো যায় ।

৪. হাই পাওয়ার টু ওয়েট রেসিও।

৫ উচ্চ উচ্চতায় অপারেট করা যায় ।

পালস জেট ইঞ্জিনের অসুবিধাসমূহ

১. অনেক শব্দ তৈরি করে ।

২. শক্তি কম।

৩. শুরু করা কিছুটা কঠিন

 

উড়োজাহাজের ইঞ্জিন

 

গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিন

সব জেট -ইঞ্জিনকে গ্যাস টারবাইনও বলা হয়। কারণ সব ইঞ্জিন একই নীতিতে কাজ করে । গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিন একটি জ্বলন ইঞ্জিন, যা প্রাকৃতিক গ্যাস বা অন্যান্য তরল জ্বালানিগুলোকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।

কার্যপ্রণালি

কম্প্রেসার দ্বারা বায়ুমণ্ডলের বাতাস টেনে এনে এর প্রজ্বলন স্থানে জ্বালানি ছিটিয়ে প্রজ্বলন করে। যার কারণে বাতাসের চাপ বহু গুণে বেড়ে যায় এবং টারবাইনের মধ্য দিয়ে প্রচণ্ড বেগে নজেল দিয়ে বের হয়ে জেট তৈরি করে। উল্লেখ্য, জেট যখন টারবাইনের মধ্য দিয়ে যায় তখন টারবাইন ঘুরতে থাকে এবং টারবাইনের সাথে যুক্ত থাকে স্যাফট আর যুক্ত থাকে কম্প্রেসার, যা বাইরের বাতাস ইঞ্জিনের ভেতরে নিয়ে ঘুরতে সহায়তা করে। যার ফলে ইঞ্জিন চলতে থাকে। গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিন চারটি ধাপে কাজ সম্পন্ন করে।

১. ইনটেক

২ কম্প্রেসার

৩. কমবারসন

৪. একজস্ট

এর মাঝে রয়েছে দুইটি সেকশন

১. কোল্ড

২. হট

কোল্ডের মাঝে রয়েছে দুইটি স্টেজ

১. ইনলেট

২. কম্প্রেসার

হট সেকশনের মাঝে রয়েছে তিনটি সেকশন

১. কমবারসন চেম্বার

২. টারবাইন

৩. একজস্ট

 

উড়োজাহাজের ইঞ্জিন

 

কী ধরনের ফুয়েল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় ?

গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসেবে জেট ফুয়েল ব্যবহার করা হয়। জেট-এ এবং জেট-বি যার রং খড় বর্ণের মতো ।

• জেট- এ হলো আনলেডেড কেরোসিন

• জেট- বি হলো নেপটা ও কেরোসিনের মিশ্রণ

গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিন চার ধরনের

১. টার্বোজেট

২ টার্বোফেন

৩. টার্বোপ্রপ

৪. টার্বোশ্যাফট

টার্বোজেট -ইঞ্জিন

টার্বোজেট-ইঞ্জিন বাণিজ্যিক ও সামরিক উড়োজাহাজ চালাতে ব্যবহার করা হয়। তবে, আগে অনেক ব্যবহার করা হতো কিন্তু বর্তমানে এর ব্যবহার খুব কম হচ্ছে। উড়োজাহাজের এই জেট- ইঞ্জিনটি সহজতম সংস্করণ এবং প্রথম জেটচালিত উড়োজাহাজটিতে টার্বোজেট -ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছিল। টার্বোজেট -ইঞ্জিন উচ্চগতি সম্পন্ন এবং প্রচুর পরিমাণে থ্রাস্ট বল তৈরি করে।

টার্বোজেট- ইঞ্জিনকে গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিন ও বলা হয়। যা একটি ইনলেট এবং সংকোচনকারী দিয়ে বাতাসকে সংকুচিত করে প্রজ্বলিত করা হয়। বাতাসের তাপে সম্প্রসারিত হয়ে ইঞ্জিনের পেছনের দিকের টারবাইন ব্লেডের ওপর দিয়ে দ্রুত গতিতে বের হয়ে যায়।

টার্বোজেট- ইঞ্জিনে পাঁচটি অংশ থাকে যা কার্য সম্পন্ন করতে খুব সহায়তা করে ।

১. ডিফিউজার

২. কমপ্রেসার

৩. বার্নার

৪. টারবাইন

৫. নজেল

 

উড়োজাহাজের ইঞ্জিন

 

 

টার্বোফেন ইঞ্জিন

টার্বোফোন ইঞ্জিন অনেক গ্যাস টারবাইন উড়োজাহাজে ব্যবহার করা হয়। যা সাধারণত বড় আকৃতির যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়।

যেমন DGEN 380 ইঞ্জিন, Cirrus SESO ভিসন এবং ডায়মণ্ড জেট।

টার্বোফেন ইঞ্জিনের সামনের দিকের বড় ফ্যান যা বায়ুমণ্ডলের বাতাস টেনে এনে সম্পূর্ণ ইঞ্জিনের ভেতরে প্রবেশ না করিয়ে কিছু অংশ ইঞ্জিনের কাউলিংয়ের মধ্য দিয়ে বাতাস প্রবাহিত হয় যাকে বাইপাস এয়ার বলে। যা ইঞ্জিনকে ঠান্ডা রাখে এবং থ্রাস্টও তৈরি করে ।

টার্বোফ্যান ইঞ্জিনের চারটি প্রধান অংশ রয়েছে

১. ইনটেক (Intake)

2. কম্প্রেশন (Compression)

৩ পাওয়ার (Power)

৪. একজস্ট (Exhaust)

টার্বোফ্যান ইঞ্জিনের ফ্যান বা ব্লেড টাইটেনিয়াম দিয়ে তৈরি যা অনেক শক্তিশালী এয়ার ইঞ্জিনের দুইটি অংশ দিয়ে প্রবেশ করে। কিছু এয়ার কোর ইঞ্জিন দিয়ে প্রবেশ করে যা অগ্নি তৈরি করে জ্বালানির মাধ্যমে।

বাইপাস এয়ার যা অতিরিক্ত থ্রাস্ট তৈরি করে।

টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন

টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন ছোট এয়ারক্রাফ্টে ব্যবহার করা হয়। টার্বোপ্রপ ইঞ্জিনচালিত এয়ারক্রাফ্ট ফ্লাইট স্পিড ০.৬ মেক অল্প ফুয়েল প্রয়োজন হয় ইঞ্জিন প্রজ্বলিত করার জন্য এবং ছোট রানওয়ে প্রয়োজন হয় টেকসই ও ল্যান্ডিংয়ের জন্য । যেমন: বোমবার এয়ার ডেস-৪৮।

এলিনিয়া এটি আর-৪২ এবং পিলাটাস পি সি-১২ টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন গ্যাসশক্তি টারবাইন ব্লেড ঘোরানোর কাজে ব্যবহার করা হয় এবং প্রপেলার ঘোরানোর শক্তি জোগায়, এই ইঞ্জিনে প্রপেলার প্রচুর পরিমাণে থ্রাস্ট তৈরি করে এবং জেট খুব কম পরিমাণে থ্রাস্ট তৈরি করে।

টার্বোপ্রপ ইঞ্জিনের টারবাইনের ঘূর্ণনকে গিয়ার বক্সের মাধ্যমে প্রপেলার ঘোরানো নয়। কারণ টারবাইনের ঘূর্ণন গতি ও প্রপেলার ঘূর্ণন গতি সমান নয় । জেট -ইঞ্জিনে প্রপেলার ব্লেডকে ঘুরিয়ে থ্রাস্ট তৈরি করে আর প্রপেলার ইঞ্জিনের সম্মুখ দিকে থাকে ছয়টি ব্লেড বা এর কম হয়ে থাকে। আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান, রিজেন্ট, ইউ এস বাংলা ছাড়াও অনেক কোম্পানি অপারেট করে টার্বোপ্রপ ইঞ্জিনচালিত এয়ারক্রাফ্ট এবং জেট ই-ঞ্জিনচালিত এয়ারক্রাফ্ট ।

 

উড়োজাহাজের ইঞ্জিন

 

টার্বোশ্যাফট ইঞ্জিন (Turboshaft Engine)

টার্বোশ্যাফট ও টার্বোজেট -ইঞ্জিনে একই ধরনের প্রিন্সিপাল ব্যবহার করা হয়। টার্বোশ্যাফট এবং টার্বোজেটের মধ্যে প্রাথমিক পার্থক্য হলো টারবাইন ও আউটপুট শ্যাফট সমন্বিত একটি অতিরিক্ত পাওয়ার বিভাগ সংযুক্ত থাকে। বেশির ভাগ পাওয়ার টারবাইন যান্ত্রিকভাবে গ্যাস জেনারেটরের সাথে সংযুক্ত থাকে না। টার্বোশ্যাফট ইঞ্জিনের অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহৃত হয় যা উচ্চশক্তিসম্পন্ন আউটপুট উচ্চনির্ভর যোগা ছোট আকারের এবং হালকা ওজন যেমন: হেলিকপ্টার সহায়ক শক্তি ইউনিট হোভার থ্রাস্ট, জাহাজ, নৌকা, ট্যাঙ্ক আরও বিভিন্ন যানে ব্যবহৃত হয়।

টার্বোশ্যাফট ইঞ্জিনের প্রধান অংশগুলো হলোঃ

১. কম্প্রেসার

২. কমবারসন চেম্বার

৩. টারবাইন

৪. পাওয়ার

৫ একজস্ট

৬. পাওয়ার শ্যাফট

জেট ও প্রপেলার উড়োজাহাজের মাঝে পার্থক্য

জেট ও প্রপেলার ইঞ্জিনচালিত উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে মূল পার্থক্য হলো জেট -ইঞ্জিনে প্রপেলার থাকে না আর প্রপেলার ইঞ্জিনে প্রপেলার থাকে। জেট -ইঞ্জিনচালিত এয়ারক্রাফ্ট বেশি উচ্চতায় ফ্লাই করতে পারে। কিন্তু প্রপেলার ইঞ্জিনচালিত উড়োজাহাজ দীর্ঘ দূরূত্বে ও বেশি উচ্চতায় ফ্লাই করে না। প্রপেলার উড়োজাহাজ সাধারণ অভ্যন্তরীণ রুট কিংবা পাসবর্তী দেশের রুটে ফ্লাই করে। বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ এবং সামরিক উড়োজাহাজের মধ্যে পার্থক্য ।

মিলিটারি

১. মিলিটারি এভিয়েশন সামরিক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রূপে ব্যবহার করা হয়।

২. মিলিটারি উড়োজাহাজ উচ্চগতি সম্পন্ন হয়ে থাকে

৩. দ্রুত আরোহন ক্ষমতা, লাইট ওয়েট ক্ষমতা, দক্ষতা এবং কার্যকর অস্ত্রের মাধ্যমে দক্ষতার সাথে শত্রুর বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্য ব্যবহার হয় ।

৪. বিভিন্ন কোণে দ্রুতগতিতে ফ্লাই করতে পারে

বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ

১. বিভিন্ন কোণে দ্রুতগতিতে ফ্লাই করতে পারে না ।

২. সাধারণত গ্রাইভেট/সরকারি কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হয় ।

৩. উড়োজাহাজের কেন্দ্রবিন্দু হলো পেলোড ক্ষমতা, গতি, যাত্রী আরাম ও সুরক্ষা।

৪. বেশি উচ্চতায় ফ্লাই করতে পারে না।

৫. বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ কেবল আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।

বিভিন্ন ধরনের মিলিটারি উড়োজাহাজ

১. সামরিক উড়োজাহাজ বিভিন্ন ডিজাইন এবং বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।

২ মিলিটারি ট্রান্সপোর্ট প্লেন।

৩. ফাইটার প্লেন ।

৪. সামরিক মেরিটাইম পেট্রল প্লেন ।

৫ সামরিক আক্রমণ উড়োজাহাজ ।

৬. সামরিক পুনঃবিবেচনা এবং আক্রমণ উড়োজাহাজ।

৭. সামরিক মাল্টিরোল উড়োজাহাজ ।

৮. মিলিটারি এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং এয়ার প্লেন ।

৯. সামরিক পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজ ।

১০. সামরিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ উড়োজাহাজ।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment