উড়োজাহাজের এয়ার ডেটা

উড়োজাহাজের এয়ার ডেটা নিয়ে আজকের আলোচনা, উড়োজাহাজ বাতাসের চেয়ে ভারী অথচ উড্ডয়নক্ষম এক ধরনের আকাশযান। যাত্রী ও পণ্য পরিবহন এবং যুদ্ধে এটি ব্যবহৃত হয়। উড়োজাহাজ নামটি এসেছে উড় বা ওড়া এবং জাহাজ বা পোত শব্দদুটি একত্রিত করে। উড়োজাহাজকে আমেরিকা, কানাডাসহ অনেক স্থানে এয়ারপ্লেন (“airplane”) বলে। আবার ব্রিটেনসহ কিছু এলাকায় অ্যারোপ্লেন নামে ডাকা হয়।

উড়োজাহাজের এয়ার ডেটা

উড়োজাহাজের এয়ার ডেটা

 

এয়ার ডেটা কন্ট্রোল সিস্টেম

এয়ার ডেটা সিস্টেমগুলো চাপের উচ্চতা, উলম্ব গতি, ক্যালিব্রেটেড এয়ারস্পিড, টু এয়ারস্পিড, মাখ নাম্বার, স্থির বায়ুর তাপমাত্রা এবং বায়ুর ঘনত্বের অনুপাত সঠিকভাবে তথ্য সরবরাহ করে থাকে। উড়োজাহাজ নিরাপদে উড়তে একজন পাইলটের জন্য এই তথ্যগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য। এই তথ্যগুলো আবার বিভিন্ন এভিওনিক্স সাব সিস্টেমের জন্য খুব প্রয়োজনীয়। যা পাইলটকে তার মিশন সম্পন্ন করতে সাহায্য করে।

এয়ার ডেটা সিস্টেমগুলো হলো:

১. আলটিমিটার

২. এয়ার ডেটা কম্পিউটার

৩. স্ট্যাটিক প্রেসার

পিটট প্রেসার

উড়োজাহাজের সম্মুখ গতির কারণে উড়োজাহাজের দেহে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সৃষ্টি হয় বাতাসের পিটট টিউব একটি বিশেষ ধরনের সেন্সর যা উড়োজাহাজের সামনের অংশে সংযুক্ত থাকে । যার ফলে উড়োজাহাজের গতি এবং ম্যাক নাম্বার জানা যায় বা নির্ণয় করা হয় ৷ পিটট টিউব অতি সাবধানতার সাথে নূনতম ত্রুটি হ্রাস করে সঠিক গতি ও ম্যাক নম্বর নির্ণয়ে করে । বর্তমান আধুনিক বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের সিস্টেমের ব্যর্থতা বা ত্রুটি কমিয়ে আনার জন্য এবং অতিরিক্ত সরবরাহের জন্য মিনিমাম দুইটি সম্পূর্ণ স্বাধীন পিটট সিস্টেম থাকে ।

 

উড়োজাহাজের এয়ার ডেটা

 

আলটিমিটার

তোমরা হয়তো জানো ভূপৃষ্ঠে বাতাসের চাপ প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে ১৪ দশমিক ৭ পাউন্ড ওজনের সমান এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে যতই উপরের দিকে ওঠে ততই বাতাসের চাপ কমতে থাকে। তাহলে তোমরা বুঝতেই পারছ আলটিমিটার কী কাজে ব্যবহার হয়। আলটিমিটার উড়োজাহাজের উচ্চতা পরিমাপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

যা উড়োজাহাজের নিরাপদে উড্ডয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আলটিমিটার উচ্চতাভেদে বাতাসের চাপের তারতম্যের ভিন্নতা মেপে উড়োজাহাজের উচ্চতা নির্ণয় করা হয় । তোমরা মনে রাখবে, আলটিমিটার বাতাসের স্থানীয় চাপ সেট করার স্কেল এবং এর সাথে সংযুক্ত থাকে ডিজিটাল কাউন্টারও । পাইলট উড্ডয়নের আগে এবং পরে এয়ারপোর্টে অবস্থান করা অবস্থায় বাতাসের স্থানীয় চাপ সেট করে নেন ।

এটিকে কিউ এফ ই সেটিংসও বলা হয়। ১৮ হাজার ফুট উর্ধ্বগামি উড্ডয়নরত সব যানকে আলটিমিটারে কি উ এফ ই সেট করে নিতে হয়। তাহলে বুঝতেই পারছ নিরাপদে উড্ডয়ন ও ন্যূনতম দূরত্ব বজায় রেখে ওড়ার জন্য এটি ব্যবহার করা হয় ।

 

উড়োজাহাজের এয়ার ডেটা

 

স্ট্যাটিক প্রেসার

স্ট্যাটিক প্রেসারের অপর নাম হলো আম্বিয়েন্ট প্রেসার। উড়োজাহাজ যখন উড্ডয়নরত অবস্থায় থাকে, তখন এর মান নির্ণয় করা খুবই কঠিন কিন্তু স্ট্যাটিক পোর্ট সেন্সর দিয়ে উড়োজাহাজের গতি উচ্চতা ইত্যাদির মান নির্ণয় করা যায়। তাহলে বলা যায়, স্ট্যাটিক প্রেসার হচ্ছে উড়োজাহাজের ওপর প্রযুক্ত বাতাসের স্থানীয় চাপ। তার মানি হচ্ছে, এটি দিয়ে উড়োজাহাজের ভেতরের চাপ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

 

উড়োজাহাজের এয়ার ডেটা

 

এয়ার স্পিড ইন্ডিকেটর

এয়ার স্পিড ইন্ডিকেটর হলো উড়োজাহাজের গতিমাত্রা নির্ণয়ক যন্ত্র, যা উড়োজাহাজের সঠিক সময়ে সঠিক স্পিড প্রদর্শন করে ইন্ডিকেটরের মাধ্যমে। এই ইন্সট্রুমেন্টের ভেতর একটি ডায়াফ্রেম আছে যার ভেতর পিটট প্রেসার এবং বাইরে স্টাটিক প্রেসার প্রয়োগ করা হয়।

উড়োজাহাজ যখন দ্রুতগতিতে যেতে থাকে, তখন পিউট প্রেসার বাড়তে থাকে সাথে সাথে ডায়াফ্রেমও ফুলতে থাকে এবং ডায়াফ্রেমের সাথে সংযুক্ত রড ও গিয়ার মেকানিজম পয়েন্টারকে গতি অনুসারে ডায়ালের ওপর ঘুরতে থাকে এবং ইন্ডিকেটরটি এভাবে উড়োজাহাজের গতিমাত্রা নির্ণয় বা প্রদর্শন করে । তবে বাতাসের ঘনত্বের তারতম্যের কারণে গতিমাত্রা পরিবর্তন হয়ে থাকে।

 

উড়োজাহাজের এয়ার ডেটা

 

এয়ার ডেটা কম্পিউটার

বর্তমান উড়োজাহাজ উড্ডয়ন বা নির্গমনকালে বাতাস এবং তাপমাত্রাসংক্রান্ত সঠিক তথ্য প্রদানের জন্য এবং নিরাপদ ফ্লাইট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয় । এয়ার ডেটা কম্পিউটার একটু ভিন্নভাবেই তথ্য সংগ্রহ করে থাকে।

যেমন:

১. ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার

২. অটোপাইলট

৩. উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র

৪. আটোপ্রোটল

৫. এয়ার ট্রান্সপন্ডার এ ছাড়াও বিভিন্ন ডিজিটাল যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়।

এয়ার কম্পিউটার

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে কম্পিউটার শিক্ষার বিকল্প নেই । আর বর্তমান সময়ে মানুষ বিভিন্ন কোর্স করে নিজেকে কম্পিউটারের ওপর দক্ষ করে ফেলেছে। প্রতিটি সেক্টরে রয়েছে কম্পিউটারের ব্যবহার। ঠিক তেমনি ভাবে এভিয়েশনেও রয়েছে কম্পিউটারের প্রচুর ব্যবহার, যার ফলে এখন কম্পিউটারের মাধ্যমে সুন্দরভাবে কন্ট্রোল করা যাচ্ছে।

উড্ডয়ন হয়েছে অনেক আরামদায়ক ও নিরাপদ। বর্তমান আধুনিক যুগে এয়ারপোর্ট কিংবা নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় বসে উড়োজাহাজের সবকিছু দেখাশোনা কিংবা পর্যবেক্ষণ করা যায় কম্পিউটারের মাধ্যমে। যার ফলে সবকিছু হয়েছে সুক্ষ্ম এবং নিরাপদ।

উড়োজাহাজে বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, অটোপাইলট কম্পিউটার, ইনারশিয়াল নেভিগেশন, ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রণ কম্পিউটার, ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট কম্পিউটার গ্লোবাল পজিশন কম্পিউটার, ফ্লাইট ডেটা কম্পিউটার ইত্যাদি। এগুলোর প্রত্যেকটি বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন করে।

এ আই এম এস সিস্টেম উড়োজাহাজের ব্রেইন

এটি একটি আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, যা বর্তমানে আধুনিক উড়োজাহাজে ব্যবহার করা হয়। এটি বিশেষ করে উড়োজাহাজের তথ্য ও যোগাযোগের ব্যবস্থা করে। উড্ডয়নের সব তথ্য সংগ্রহ এবং প্রেরন করে। ফ্লাইট কন্ট্রোল এবং ইলেকট্রনিক ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এ ছাড়াও অনেক কাজ করে থাকে। এটি ব্যবহারের ফলে উড়োজাহাজের জ্বালানি সাশ্রয় করে স্বল্প সময়ে ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে অসামান্য ভূমিকা রাখে। তাই এটিকে উড়োজাহাজের ব্রেইন বলা হয়।

Leave a Comment