উড়োজাহাজের কাঠামো নিয়ে আজকের আলোচনা, উড়োজাহাজ বাতাসের চেয়ে ভারী অথচ উড্ডয়নক্ষম এক ধরনের আকাশযান। যাত্রী ও পণ্য পরিবহন এবং যুদ্ধে এটি ব্যবহৃত হয়। উড়োজাহাজ নামটি এসেছে উড় বা ওড়া এবং জাহাজ বা পোত শব্দদুটি একত্রিত করে। একটি উড়োজাহাজের কাঠামো হল একটি হালকা ওজনের ইকোসিস্টেম যা বৃত্তাকার ফ্রেম, রৈখিক স্ট্রিংগার এবং স্কিন প্যানেল থেকে তৈরি হয় — হয় মেশিন বা শীট মেটাল থেকে তৈরি।
উড়োজাহাজের কাঠামো
১. ফিউজলেজ/মূল কাঠামো- Fuselage
২. উইংস/ডানা- Wings
৩. এমপেনেজ/পেছনের ডানা- Empennage
৪. ল্যান্ডিং গিয়ার/অবতরণ ঢাকা Landing Gear
৫ টারবাইন/ইঞ্জিন- Engine
উড়োজাহাজের মূল কাঠামো
উড়োজাহাজের মূল কাঠামোর মধ্যে রয়েছে পাইলট, যাত্রী, মালামাল এবং উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ।
উড়োজাহাজের আয়তন
উড়োজাহাজের আয়তন নির্ভর করে উড়োজাহাজের ডিজাইনের ওপর এবং এর সাথে সংযুক্ত থাকে উইংস/ডানা ইঞ্জিন (বিভিন্ন ধরনের) পেছনের ডানা ও অবতরণের জানা থাকে ল্যান্ডিং গিয়ার/চাকা।
উড়োজাহাজের মূল কাঠামোটি প্রধানত তিনটি কম্পার্টমেন্টে হয়ে থাকে
যেমন:
১. পাইলটদের কম্পার্টমেন্ট/ককপিট ।
২ যাত্রী কেবিন।
৩. মালামাল কম্পার্টমেন্ট।
প্রধান কাঠামোর সাথে সংযুক্ত রয়েছে বিভিন্ন ছোট, ছোট কম্পার্টমেন্ট
১. খাবার রাখার জায়গা।
২. ওয়াশরুম।
৩. কেবিন ক্রু বসার স্থান।
8. লকার।
৫ বিনোদনমূলক স্থান।
৬. যন্ত্রপাতি রাখার জায়গা।
উড়োজাহাজের কাঠামো মজবুত করে তৈরি করা হয় কেন?
যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বা অন্যান্য আকাশযান অধিক উচ্চতায় উড়ে, যেখানে বায়ুর চাপ ও ঘনত্ব কম থাকে। যেমন- যাত্রীবাহী উড়োজাহাজগুলো পাঁচ হাজার থেকে ত্রিশ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ে। সাধারণত আট হাজার ফুট উপরে ঊর্ধ্বগামী উড়োজাহাজগুলো বায়ুর চাপ নিয়ন্ত্রণ করে উপরে যেতে হয়। কারণ, অধিক উচ্চতায় বায়ুর চাপ ও ঘনত্ব কম থাকায় মানুষ বেশিক্ষণ থাকতে পারে না, তাই ভেতরে বায়ুর চাপ বাইরের তুলনায় বেশি রাখা হয়, যাতে করে মানুষ পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন পেতে পারে ৷ এ জন্যই উড়োজাহাজের কাঠামো মজবুত করে তৈরি করা হয়।
উড়োজাহাজ কীভাবে আকাশে ওড়ে
বিমান বা উড়োজাহাজ নামে যানটি কীভাবে নীল আকাশে ওড়ে।
অ্যারোডায়নামিকস সূত্রের ওপর নির্ভর করে ফ্লাই করে উড়োজাহাজ
অ্যারোডায়নামিকসের অর্থ অ্যারোডায়নামিকস ইংরেজি শব্দ। যার অ্যারো শব্দের অর্থ উড়োজাহাজ বা বাতাস ও বলা হয় এবং ডায়নামিকসের অর্থ গতিবিদ্যা। অ্যারোডায়নামিকস একটি গ্রিক শব্দ।
ইতালীয় বিজ্ঞানী ড্যানিয়েলের বার্নুলি উড্ডয়ন সূত্র। তিনি বলেছিলেন, কোনো বস্তুর নিচের অংশের তুলনায় উপরের অংশে যদি অধিকতর গতিসম্পন্ন বাতাস প্রবাহ করা যায় তাহলে বস্তুটি বাতাসের চেয়ে হালকা হয়ে উপরে উঠতে পারবে।
ঠিক তেমনিভাবেই উড়োজাহাজের বড়ির ডানাগুলো অ্যারোফয়েল সেইপে তৈরি যার কারণে বাতাস দ্বারা তৈরি রেখিক বলের চেয়ে বেশি উত্তোলন বল তৈরি হয়। উড়োজাহাজের ডানার আকৃতি উপরের অংশ বাঁকানো থাকে। যার ফলে উপর দিয়ে বাতাস অতিক্রমের পথ নিচের তুলনায় দীর্ঘতম এবং বাতাসের গতিও বেশি থাকে ।
উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের সাহায্যে থ্রাস্ট বা সামনে যাবার বল তৈরি করে দ্রুতগতিতে প্রবাহিত হয়, ঠিক তখনই বায়ুমণ্ডলের বাতাসের চাপ ডানার নিচে বেশি এবং উপরে কম হয় এই প্রক্রিয়ার ফলে ডানার ওপর ভর করে উড়োজাহাজ উত্তোলন বল পেয়ে নীল আকাশে পাড়ি দেয় ।
উড্ডয়নে নিউটনীয় সূত্রের ব্যবহার/প্রভাব
নিউটনের সূত্র বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় প্রতীয়মান হচ্ছে। ঠিক তেমনিভাবে উড়োজাহাজ উড্ডয়নেও এই সূত্র প্রযোজ্য। উড়োজাহাজ যখন উড্ডয়নের জন্য রানওয়েতে অবস্থান করে তখন উইংস / ডানার পেছনে ও সামনের ফ্ল্যাপগুলো বর্ধিত করে দেওয়া হয় এবং উড়োজাহাজ ওড়ার জন্য দ্রুতগতিতে সামনের দিকে যেতে থাকে, ঠিক তখনই আগত বাতাস ডানার নিম্নগামী হয়ে বের হয়ে যায়। যখন বল প্রবলবেগে বায়ুমণ্ডলের নিম্নমুখী হয়ে ধাক্কা দেয় এবং প্রতিক্রিয়াশীল বল ডানায় ভর করা উড়োজাহাজকে উপরের দিকে নিয়ে যায়। “ নিউটনের সূত্র আবিষ্কারের ফলে তৈরি হয় উড়োজাহাজ ওড়ার বৈজ্ঞানিক কৌশল ও নতুন ডিজাইনের ডানা/উইংস । ”
উড়োজাহাজে প্রযুক্ত বল
যেমন:
১. উত্তোলন বল/লিফট।
২. ওজন বা মাধ্যাকর্ষণ বল ।
৩. ফ্রন্ট বা সামনের দিকের বল ।
৪. ড্রাগ বা রোধক বল ।
আরও দেখুনঃ
2 thoughts on “উড়োজাহাজের কাঠামো”