উড়োজাহাজ তৈরি নিয়ে আজকের আলোচনা, সম্পূর্ণ উড়োজাহাজ একটি কোম্পানি তৈরি করে না। বিভিন্ন কোম্পানি উড়োজাহাজের বিভিন্ন পার্টস তৈরি করে এবং পরে একটি কোম্পানি সবকিছু এসেম্বল করে। যার ফলে একটি সম্পূর্ণ উড়োজাহাজ তৈরি হয় ।
উড়োজাহাজ তৈরি
উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর নাম নিম্নে দেওয়া হলো
১. বোয়িং (Boeing)
২. এয়ারবাস (Airbus)
৩. ব্রিটিশ এরোস্পেস করপোরেশন (British Aerospace Corporation)
৪. লকহেড মার্টিন ( Lockheed Martin)
৫. বোমবার ডিয়ার (Bombardier)
৬. ম্যাকডোনাল্ড (Mac Donald)
৭. বিএই সিস্টেম (BAE Systems)
৮. ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট (United Aircraft)
৯. এমব্রায়ার (Embraer)
১০. সাফরান (Safran)
উল্লেখ্য, উপরোক্ত কোম্পানি ছাড়াও আরও অনেক উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী কোম্পানি রয়েছে।
ইঞ্জিন প্রস্তুতকারী কোম্পানি
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন কোম্পানি আছে যারা উড়োজাহাজের ইঞ্জিন প্রস্তুত করে থাকে কিংবা ইঞ্জিনের কোনো না কোনো যন্ত্রাংশ তৈরি করে থাকে ঠিক তেমন কিছু কোম্পানির নাম দেওয়া হলো।
১. রোলস রয়েস (Rolls Royce)
২. জেনারেল ইলেকট্রিক (General Elactric)
৩. প্লাট ও হুইটনি (Pratt & Whitney)
৪. নর্থরোপ গরুমম্যান (Northrop Grumman )
৫ সাফরান (Safran)
৬. হানিওয়েল এরোস্পেস (Honeywell Aerospace )
হেলিকপ্টার প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো দুই ভাগে বিভক্ত যেমন:
১. ডিজাইন করে প্র্যাচ থেকে নিউ ডিজাইন তৈরি এবং সার্টিফাই করা।
২. আর একটি কোম্পানি যারা কেবল লাইসেন্সের অধীনে বিদ্যমান ডিজাইন তৈরি করে।
কোম্পানির নামগুলো হলো:
১. আগুস্তা ওয়েস্টল্যান্ড
২. এয়ারবাস হেলিকপ্টার
৩. ইএইচ ইন্ডাস্ট্রিজ
৪. এন এইচ ইন্ডাস্ট্রিজ
৫ ইউরোকপ্টার
এ ছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানি রয়েছে, যারা হেলিকপ্টার তৈরি করে কিংবা কোনো না কোনো পার্টস তৈরি করে থাকে।
উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টারের মাঝে পার্থক্য
উড়োজাহাজ এমন একটি যান যা বাতাসের মাধ্যমে বিভিন্ন উচ্চতায় ফ্লাই করতে পারে। উড়োজাহাজ অ্যারোফয়েল উইংস দ্বারা উৎপাদিত লিফট এবং ইঞ্জিন দ্বারা উৎপন্ন শক্তি ও থ্রাস্টের মাধ্যমে ফ্লাই করে অপরদিকে হেলিকপ্টার ফ্লাই করে থ্রাস্ট এবং রোটরের দ্বারা লিফট উৎপন্নের মাধ্যমে। উড়োজাহাজ, হেলিকপ্টার থেকে তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।
বর্তমান কম্পিউটারাইজড নিয়ন্ত্রণ উড়োজাহাজগুলোর বেশিরভাগ কাজ করা হয় কম্পিউটারে যা আগে থেকে কমান্ড দেওয়া থাকে, যা পাইলটের কাজকে আরও সহজ করে দিয়েছে। হেলিকপ্টারগুলোতে পাইলটকে উভয় হাত দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং পা-ও জড়িত থাকে।
উড়োজাহাজ অধিক যাত্রী নিয়ে ফ্লাই করতে সক্ষম কিন্তু হেলিকপ্টার নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী বহন করতে পারে ।
উড়োজাহাজ তৈরির উপাদান
যানবাহন তৈরিতে যেমন বিভিন্ন ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয় ঠিক তেমনিভাবে উড়োজাহাজ তৈরি করতে ব্যবহার করা হয় টাইটেনিয়াম, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিটসহ আরও অনেক উপকরণ সংমিশ্রণে সাধারণত থাকে পলিমার কার্বন ফাইবার এবং আরও অনেক ধরনের সামগ্রী। উক্ত ধাতুগুলো শক্ত শক্তিশালী, কার পরিরোধী এবং ওজনে হালকা হয়ে থাকে।
তবে একসময় কাঠ এবং কাপড় ব্যবহার করে উড়োজাহাজ তৈরি করা হত যার কারণে উড়োজাহাজের দ্রুত অবনতি ও অনেক রক্ষণাবেক্ষণ করতে হতো, তাই এখন আর ব্যবহার করা হয় না।
অ্যালুমিনিয়াম
অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করা হয় কারণ এর ঘনত্ব কম (২৭ গ্রাম) উচ্চশক্তিসম্পন্ন ভালো তাপ, বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা, প্রযুক্তিগত কার্যকারিতা এবং ক্ষয় প্রতিরোধী। কিন্তু এটি উচ্চ তাপমাত্রায় শক্তি হারায় তাই উড়োজাহাজের ত্বকের পৃষ্ঠের সাথে ব্যবহার করা হয় না। ইস্পাত লোহার একটি খাদ, কার্বন এবং এটি অ্যালুমিনিয়ামের চেয়ে তিন গুণ বেশি শক্তিশালী ও ভারী। এটি সাধারণত ল্যান্ডিং গিয়ারে ব্যবহৃত হয় এবং উড়োজাহাজে ত্বকের পৃষ্ঠে ব্যবহার করা হয় কারণ স্ট্রেন্থ, হার্ডনেস এবং তাপ প্রতিরোধী ।
টাইটানিয়াম এবং অ্যালোয়
টাইটানিয়াম এবং অ্যালোয় সাধারণত উড়োজাহাজ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় কারণ উচ্চশক্তি গুনাগুন সম্পন্ন, উচ্চ তাপমাত্র ও ক্ষয় প্রতিরোধী, যদিও এটি খুব ব্যয়বহুল তারপরেও ব্যবহার হয় এর উপাদানগুলোর গুনাগুনের কারণে এ ছাড়াও এটি ব্যবহার হয় প্যানেলে, সুইভেলস উইং অ্যাসেমরি, হাইড্রোলিক সিস্টেম এবং অন্য অংশগুলোতে।
কম্পোজিট মেট্রলিয়াস / উপকরন
উড়োজাহাজ তৈরিতে কম্পোজিট উপকরণ ব্যবহার করার কারণ উচ্চ সংকোচনে প্রতিরোধ ক্ষমতা, ওজন কম, ক্ষয়প্রতিরোধী এবং উচ্চ টেনসাইল কম্পোজিট উপকরণগুলো একটি বেস উপাদান এবং রজন দ্বারা গঠিত যা সামগ্রিক উপাদানকে শক্তিশালী করে ।
কম্পোজিট উপকরণগুলো উড়োজাহাজের জ্বালানি দক্ষতা, কার্যকারিতা এবং উড়োজাহাজের পরিচালনা বায়কে উন্নত করে। সর্বাধিক সাধারণ কমপোজিট উপাদান হলো ফাইবার গ্লাস যা তৈরি হয় গ্লাস ফাইবার বেস উপাদান এবং রজন ম্যাট্রিক্স দিয়ে।
উড়োজাহাজের উইংস তৈরির উপাদান
উড়োজাহাজের উইংসগুলো নির্দিষ্ট অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি করা হয়। অ্যালোয় হালকা এবং শক্তির সংমিশ্রণ যা স্টিলের সাথে তুলনাযোগ্য সহজে উড়োজাহাজ ফ্লাই করতে সাহায্য করে।
উড়োজাহাজের পাঁচটি প্রধান কম্পনেন্ট
১. ফিউজেলাসঃ
যা উড়োজাহাজের বড়ি/দেহ কিংবা টিউবের মতো দেখতে। উড়োজাহাজের প্রথম ও প্রধান কমপোনেন্ট।
২. উড়োজাহাজের উইংস বা ডানাঃ
ডানাদ্বয় উড়োজাহাজ ফ্লাই করতে সাহায্য করে এবং ফুয়েল কেরি করে।
৩. ইমপেনেঞ্জঃ
যা উড়োজাহাজের একদম পেছনের অংশ, যেখানে স্টেবিলাইজারগুলো থাকে।
৪. পাওয়ার ফ্লান্টঃ
উড়োজাহাজের ইঞ্জিন এবং প্রপেলারদ্বয়কে বলা হয় যা উড়োজাহাজের শক্তি উৎপন্ন করে ।
৫. ল্যান্ডিংগিয়ারঃ
উড়োজাহাজ সেইফলি অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এবং চাকা যা উড়োজাহাজের মধ্যবর্তী নিচের অংশে থাকে। ল্যান্ডিং গিয়ার কেবল ল্যান্ডিংয়ের জন্য নয় এটি টেস্কি এবং টেক অফের জন্যও ব্যবহার হয়।
কার্বন ফাইবার
কার্বন ফাইবার অত্যন্ত সূক্ষ্ম যা ৫-১০ মাইক্রোমিটার কার্বন এটম দিয়ে তৈরি যা খুবই শক্ত, মজবুত, ওজনে হালকা, মরিচা প্রতিরোধী এবং উচ্চ তাপমাত্রায় কম সম্প্রসারণশীল বৈশিষ্ট সহওয়ায় উড়োজাহাজের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহার হয় ।
টেইল বা টেইল অ্যাসেমরি
টেইলকে অনেকে লেজ, লেজ অ্যাসেমরি কিংবা পেছনের ডানা বলে থাকে। এটি উড়োজাহাজের পেছনের একটি কাঠামো যা ইন ফ্লাইটে স্থিতিশীলতা সরবরাহ করে বা ভারসাম্য ঠিক রাখে। টেইল প্রধানত দুইটি অংশে বিভক্ত যেমন:
১. হরিজন্টাল/ সমান্তরাল টেইল
২ ভার্টিকেল বা খাড়া টেল।
হরিজনটাল টেইল আবার দুই ভাগে বিভক্ত
১. এলিভেটর
২. ট্রিম টেব
ভার্টিকেল টেইল দুই ভাগে বিভক্ত
১. রাজার
২. ড্রিম টেব
এখানে ট্রিম টেবটি কমন যা দুইটি অংশেই আছে এবং প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা কাজ করে থাকে।
ল্যান্ডিং গিয়ার
উড়োজাহাজ উড্ডয়ন টেক্সি এবং ল্যান্ডিংয়ের সময় ব্যবহার করা হয়। ল্যান্ডিং গিয়ার তৈরি করার জন্য শক্তিশালী স্টিল এবং টাইটেনিয়াম অ্যালোয় ব্যবহার করা হয় ৷ ল্যান্ডিং গিয়ার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে যেমন:
১. টেল হুইল টাইপ (Tail wheel)
২. ট্যান্ডেম টাইপ (Tandem Type)
৩. ট্রাইসাইকেল ল্যান্ডিং গিয়ার (Tricycle Landing Gear)
8. স্কি প্লেন (Ski planes)
৫ পন্টুনস (Pontoons )
বেশির ভাগ উড়োজাহাজে ট্রাইসাইকেল ল্যান্ডিং গিয়ার ব্যবহার করা হয় এবং এক বা একাধিক ধরনের উড়োজাহাজে বিভিন্ন সেটের ল্যান্ডিং গিয়ার থাকে, যা খুবই মজবুত ও প্রচণ্ড ধাক্কায় কিংবা ঝাঁকুনি সামলে নিতে পারে। ল্যান্ডিং গিয়ারের মাঝে রয়েছে পাঁচটি সার্ভো সিস্টেম, যার রয়েছে বিভিন্ন কার্যপ্রণালি ।
যেমন:
১. মূল ভিম
২. সংকোচন ব্যবস্থা
৩. ব্রেক
৪. স্টিয়ারিং
৫. এন্টি স্কিড
মূল ভিমে থাকে নাইট্রোজেন গ্যাস এবং তেল
ল্যান্ডিং গিয়ারের উপাদান
আধুনিক বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের মধ্যে ল্যান্ডিং গিয়ারের প্রধান উপাদানগুলো হলো
১. হুইল অ্যাসেম্বলি
২. এয়ার বা অয়েল শক ট্রান্সন্সফারিং উপাদান
৩. ব্রেকিং সিস্টেম
৪. এক্সটেনশন/রিটেকশন
৫ সেইফটি ডিভাইস
৬. গিয়ার অ্যালাইন ইউনিইট
৭. স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ এলিমেন্টস
Struts (ভাররক্ষা করা )
স্টার্টস টেকঅফ এবং টেস্কির স্টার্টস ল্যান্ডিংয়ের সময় শক ট্রান্সমিট করে ।
ল্যান্ডিং গিয়ার স্টার্টস তিন ধরনের হয় যেমন:
১. বাঙ্গি (Bungee)
২. স্প্রিং (Spring)
৩. Oleo (ওলিও) ওয়েল এবং এয়ারের স্টার্টস আস্তে আস্তে শক্তিগুলো নাইট্রোজেন এয়ার ফ্রেমের দিকে প্রেরণ করে যেন বাউন্সিং করার প্রবণতা কমে যায়।
ফ্লাইট কম্পার্টমেন্ট
উড়োজাহাজে ঢুকতেই হাতের বায়ে যেই কম্পার্টমেন্টটি থাকে তাকে বলে ককপিট বা ফ্লাইট কম্পার্টমেন্ট। উড়োজাহাজ চালনার জন্য একজন ক্যাপ্টেন এবং ফার্স্ট অফিসার থাকে। এছাড়াও ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার থাকে। ফ্লাইট কম্পার্টমেন্টে সবাই যেতে পারে না । পাইলট ককপিটে বসে উড়োজাহাজের যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ করে থাকে যেমন দিক, উচ্চতা, অবস্থান, পাওয়ার, উড্ডয়ন, গতিমাত্র, নেভিগেশন ইত্যাদি পরিবর্তন করতে পারেন। এ ছাড়া রয়েছে অটোপাইলট সিস্টেম যা পাইলট কমান্ড দিলে অটোমেটিকলি সব কাজ করতে পারে। তথ্য আদান-প্রধানের জন্য ককপিট থেকে পাইলট এটিসি সাথে কমিনিকেশন করেন। ককপিটে পাইলটদের আসনগুলো যেকোনো দিকে ঘোরানোর ব্যবস্থা আছে। পাইলট ককপিট থেকে যাত্রীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে পারেন । এভাবে ককপিট থেকে সব কাজ সম্পাদন করে থাকেন।
যাত্রীদের কম্পার্টমেন্ট
উড়োজাহাজের ভেতরে হাতের ডানে হলো যাত্রীদের কামরা, যেখানে যাত্রীরা বসে। যাত্রীদের কামরা আবার দুই ভাগে বিভক্ত যেমন:
- ইকোনমি
- প্রথম শ্রেণি
কিছু কিছু আধুনিক উড়োজাহাজে রয়েছে বিছানা সিস্টেম, যেখানে যাত্রীরা খুব আরাম করে ঘুমাতে পারে। যাত্রীদের কামরায় রয়েছে টয়লেট এবং গোসলখানাও। সেখানে যাত্রীরা তাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পাদন করতে পারে।
কেবিন ক্রু খুব সুন্দরভাবে সার্ভ করে থাকে, যা তোমাদের আরো মুগ্ধ করবে। উড়োজাহাজে যাত্রীদের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছুর ব্যবস্থা থাকে। যেমন: ফুড, হেলথ সাপোর্ট, টয়লেট, ড্রিংকস, ফার্স্ট এইড, কুশন, সিটবেল্ট যা সিটের সাথেই থাকে। মনিটর (বিনোদনের জন্য) খাবার টেবিলসহ আরও অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। যা একজন যাত্রীকে আনন্দ ভ্রমণ উপহার দেয়।
গ্যালি
বাসায় যেমন রান্নাঘর রয়েছে ঠিক তেমনিভাবে উড়োজাহাজেও। তবে সব খাবার থাকে রান্না করা গ্যালি থেকে কেবিন ক্রুরা যাত্রীদের প্রয়োজনীয় খাবার প্রদান করে থাকেন। যাত্রীদের ঠিক তার প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার মেনু দেখে ফুড অর্ডার করতে পারে এবং খাবার ভালো রাখার জন্য রয়েছে ওভেন। তরল যাবতীয় খাবার গরম বা ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা, ফ্রিজ, পানির টেপ এবং রয়েছে বয়েলার ।
লকার
ভিআইপি বাস বা অন্য যানবাহনে যাত্রীর বসার স্থানের ঠিক উপরের দিকে লকার থাকে, যেখানে যাত্রী তার প্রয়োজনীয় কিছু মালামাল রাখতে পারে, ঠিক তেমনিভাবে উড়োজাহাজেও রয়েছে যাত্রীর আসনের ওপরে। এটিকে সুইচে চাপ দিয়ে খুলতে হয় এবং নির্দিষ্ট ওয়েটের মালামাল রেখে আবার লক করে রাখতে হয় । যদি কোনো যাত্রী লকার খুলতে বা আটকাতে না পারে তখন সে কেবিন ক্রুদের সাহায্য নিতে পারে।
কার্গো বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার স্থান
উড়োজাহাজের মাধ্যমে কোথাও যেতে হলে নির্দিষ্ট ওয়েটের মালামাল বহন করা যায় এবং যা এয়ারপোর্টে যাওয়ার পর পরেই হ্যান্ড ওভার করতে হয়। কারণ যাত্রীদের মালামাল রাখার জন্য রয়েছে আলাদা কামরা, যেখানে সব মালামাল রাখা হয়। খুব সেইফটির সাথে মালামাল লোডের কাজগুলো যাত্রী আসনে বসার আগেই সম্পন্ন হয়ে থাকে এবং যাত্রী যখন তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যান এর কিছুক্ষণ পর সবার লাগেজ পেয়ে যান। এসব কাজ করে থাকেন লোড মাষ্টার।
টয়লেট
উড়োজাহাজে যাত্রীদের সুবিধার্থে রয়েছে টয়লেট, যেখানে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা যায়। এ ছাড়াও রয়েছে ফ্রেশ হওয়ার ব্যবস্থা, গরম ও ঠাণ্ডা পানি, তোয়ালে, সাবান আয়না এবং আধুনিক উড়োজাহাজে রয়েছে গোসল করার পানি।
জরুরি নির্গমন
উড়োজাহাজ কোন ধরনের অ্যাক্সিডেন্ট কিংবা ইনসিডেন্টে প্রতিত হলে যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় যন্ত্র বা মাধ্যম ব্যবহার করা হয়, যেমন: জরুরি নির্গমন সিঁড়ি (যা একবার ব্যবহার করা যায়, অক্সিজেন সিস্টেম, লাইফ জ্যাকেট, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র)। নেভিগেশন সিস্টেম ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।
নামাজের স্থান
প্রার্থনার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট জায়গা, যেখানে তুমি নামাজ আদায় করতে পারবে। তবে সব উড়োজাহাজে প্রার্থনার জায়গা থাকে না। নির্দিষ্ট কিছু এয়ারলাইন্স কোম্পানির উড়োজাহাজগুলোতে থাকে।
ব্ল্যাক বক্স
ব্ল্যাক বক্স বা ফ্লাইট ডাটা রেকোডার ব্ল্যাক বক্স বা কালো বক্স নামে পরিচিত। কিন্তু দেখতে উজ্জ্বল কমলা রঙের যা দূর থেকে সহজে শনাক্ত করা যায়। ব্ল্যাক বক্সে সব তথ্য থাকে ৷ কোনো কারণে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পতিত হলেও কিংবা পুড়ে গেলেও কালো বক্সে কিছু হয় না । যার ফলে তথ্য নেওয়া যায় এবং পরবর্তী দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে কাজ করে আর সহজে ইনভেস্টিগেশন করা যায় ।
অধিক উচ্চতায় উড়োজাহাজ কেন উড্ডয়ন করে
উড়োজাহাজের ওপর নির্ভর করে কত উচ্চতায় ফ্লাই করবে, যেমন আধুনিক বড় উড়োজাহাজগুলো সাধারণত ৩০ হাজার ফুট থেকে ৬৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ফ্লাই করতে পারে, এত উচ্চতায় উড়োজাহাজ ফ্লাই করে, কারণ তাপমাত্র কম থাকে যার ফলে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
১ জ্বালানি খরচ কম হয়।
২. বাতাস কিছুটা স্থিরও থাকে।
৩. ঘূর্ণিঝড় থাকে না।
৪. উড্ডয়ন অনুকূলে থাকে ।
এ ছাড়াও অনেক কারণ আছে তবে উপরের কারণগুলো উল্লেখযোগ্য।
পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম
ঊর্ধ্বগামী সব উড়োজাহাজে থাকে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম, যেন যাত্রীদের কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুক্ষীণ না হতে হয়। পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম বাতাসের তাপ, চাপ, বিশুদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ করে। উল্লেখ্য, অতি উচ্চতায় তাপমাত্রা কম থাকার কারণে (-৫৬০ সেলসিয়াস) ঠান্ডা বাতাসের চাপও কম থাকে এবং অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকার কারণে যাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মৃত্যুবরণও করতে পারে। তাই এসব বিষয় লক্ষ রেখেই পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।
অক্সিজেন সিস্টেম
অক্সিজেন সিস্টেম এমনভাবে ডিজাইন এবং তৈরি করা হয় যেন পিউর অক্সিজেন তৈরি করে প্রয়োজন অনুযায়ী যাত্রীদের মাঝে বিতরণ করতে পারে। অক্সিজেন সিস্টেম সামরিক উড়োজাহাজে, বাণিজ্যিক এবং ব্যবসায়িক উড়োজাহাজে ইনস্টল করা হয়। চাপবিহীন উড়োজাহাজের মধ্যে যা ১০ হাজারের অধিক উচ্চতায় ফ্লাই করে সেসব উড়োজাহাজের যাত্রীদের মাঝে সাধারণত স্থির বা বহনযোগ্য পদ্ধতি দ্বারা অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়।
ফ্লাইট ডেকের জন্য সাধারণত এক বা একাধিক ট্যাঙ্ক বা সিলিন্ডার থাকে, চাপযুক্ত গ্যাস সংরক্ষণ করার জন্য। আবার নির্দিষ্ট কিছু উড়োজাহাজে অক্সিজেন তরল হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।
বর্তমান যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে দুই ধরনের অক্সিজেন থাকে যেমন:
১. বায়বীয়
২. রাসায়নিক / অক্সিজেন জেনারেটও বলে। (সোডিয়াম, ক্লোরেট, পটাসিয়াম সুপার অক্সাইড, বা লোহার গুঁড়ো)
অক্সিজেন মাস্ক কেন পরতে হয়
সাধারণত উড়োজাহাজে বায়ুর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কেবিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ হয় কিন্তু কোনো কারণে কেবিনে চাপ ড্রপ হলে অটোমেটিকেলি উপর থেকে অক্সিজেন মাস্ক ঝুলে পড়ে এবং মাস্কগুলো হাইপোক্রিয়া প্রতিরোধের জন্য কমপক্ষে ১৫ মিনিটের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে। তাই যাত্রীদের উচিত হবে এমন পরিস্থিতিতে পড়লে যত দ্রুত সম্ভব মাস্ক পরা এবং নিজে না পরতে পারলে ক্রুদের সাহায্য নেওয়া।
বাতাসের চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের কম্প্রেসার থেকে আগত বাতাস এয়ার সাইকেল তাপ, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ও বিশুদ্ধ করে কেবিনের ভেতরে প্রবাহিত করা হয়। উল্লেখ্য, যে হারে কেবিনে বাতাস প্রবেশ করানো হয় ঠিক সমপরিমাণ বা বেশি হারে বাতাস বের করে দেওয়া হয় যেন কেবিনে বাতাসের চাপ ঠিক থাকে।
উড়োজাহাজে যাত্রীদের থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড কেবিনে বাতাসের বিশুদ্ধতা নষ্ট করে যার কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তাই এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য উড়োজাহাজে রয়েছে ভেন্টিলেশন সিস্টেম, এর কাজ হলো কার্বন ডাই- অক্সাইড সমৃদ্ধ দূষিত বাতাস বের করে দিয়ে বিশুদ্ধ বাতাস প্রবহমান রাখা। সধারণত কেবিনের উপর থেকে বিশুদ্ধ বায়ু আসে আর এভাবেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
আরও দেখুনঃ
1 thought on “উড়োজাহাজ তৈরি”