এয়ারক্রাফ্ট পাইলট [ ক্যারিয়ার ক্যাটালগ ]

আজকের আলোচনার বিষয় এয়ারক্রাফ্ট পাইলট, একজন পাইলট সাধারণত ছোট-বড় বিভিন্ন যাত্রীবাহী বা কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করেন। একটি বিমানে সাধারণত দুই ধরনের পাইলট প্রয়োজন হয় – ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলট। তারা বিমানের মূল নিয়ন্ত্রণ, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ এবং যাত্রী ও ক্রুদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবার কাজ করে থাকেন। অবশ্য বিমানবাহিনীতে নিযুক্ত পাইলটদের কাজের ধরন আলাদা।

 

এয়ারক্রাফ্ট পাইলট

এয়ারক্রাফ্ট পাইলট [ ক্যারিয়ার ক্যাটালগ ]

 

পাইলট হওয়ার শর্তসমূহ

  •  সর্বনিম্ন ১৭ বছর হতে হবে।
  •  বিজ্ঞান বিভাগ বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে ।
  •  মেডিকেল ফিটনেস নিয়ম অনুযায়ী হতে হবে ।
  •  পাসপোর্ট থাকতে হবে ।
  • ইংরেজি ভাষা জানা থাকতে হবে ।
  •  লিখতে এবং বলতে জানতে হবে।
  •  চক্ষু দক্ষতা: ৬/৬ স্বাভাবিক দৃষ্টিক্ষমতাসম্পন্ন হতে হবে ।
  • উচ্চতা: পুরুষ – ১৬২.৫৬ সে.মি (৬৪ ইঞ্চি)।
  • মেয়েদের- ১৫৭.৪৮ সে.মি (৬২ ইঞ্চি)।
  • ওজন: বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ।
  • বক্ষ: পুরুষ ৩২”, নারী ২৮”।

পাইলট ইউনিফর্ম (Pilot uniform )

 

এয়ারক্রাফ্ট পাইলট

 

স্ট্রিপেস

 

এয়ারক্রাফ্ট পাইলট

 

পাইলটিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া

পাইলট হওয়ার জন্য রয়েছে অনেকগুলো প্রক্রিয়া বা দাপ । যা সম্পন্ন করেই একজন যোগ্য পাইলট হতে হবে । লাইসেন্স (PPL) পাইলট হওয়ার প্রথম ধাপ এবং অধ্যয়নরত গ্রাউণ্ড এবং ফ্লাইং সাবজেক্ট CAAB এর পরীক্ষায় পাস করতে হবে । এই দুইটি পরীক্ষায় পাস করলেই PPL লাইসেন্স পাওয়া যাবে বা ইস্যু হবে ।

দ্বিতীয় ধাপ:

কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (CPL)

  •  মিনিমাম ১৮ বছর হতে হবে।
  • মেডিকেল টেস্টে কোয়ালিফাইড হতে হবে।

CAAB এর অধীনে গ্রাউন্ড সাবজেক্ট এবং ফ্লাইং পরীক্ষায় পাস করতে হবে। ২০০ ঘণ্টার মাঝে ১৫০ ঘণ্টা সোলো ফ্লাইং সম্পন্ন করতে হবে। তাহলেই পাবে CPL লাইসেন্স।

 

এয়ারক্রাফ্ট পাইলট

 

তৃতীয় ধাপ: ফ্লাইট ইনস্ট্রাক্টর

CPL লাইসেন্স পাবার পর থেকে ইনস্ট্রাকশনাল টেকনিক পাবে।

  •  ফ্লাইং আওয়ার ৩০

চতুর্থ ধাপ:

হলো IR (ইন্সট্রুমেন্ট রেটিং) পাইলট ইন্সট্রুমেন্ট ফ্লাইট রুলসের অধীনে এবং সমস্ত ধরনের আবহাওয়ায় উড়োজাহাজ ফ্লাই করবে। উপরোক্ত ধাপগুলো এবং লাইসেন্স অ্যাকটিভ করে সম্পূর্ণ রূপে দেশি, বিদেশি বিভিন্ন এয়ার লাইসেন্স অ্যাপ্লাই করতে পারবে।

উড়োজাহাজে রয়েছে দুই ধরনের পাইলট যেমন ফ্রাস্ট অফিসার অপরজন ক্যাপ্টেন আর যারা নতুন যোগদান করেন তাদের বলা হয় ক্যাডেট পাইলট ।

ফ্লাইং একাডেমি:

১. Arirang flying school

২. Galaxy flying Academy LTD.

৩. Bangladesh flying Academy

 

এয়ারক্রাফ্ট পাইলট

 

সামরিক পাইলট

যারা বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী এবং সেনাবাহিনীতে পাইলট হিসেবে কর্মরত তাদের সামরিক পাইলট বলা হয়। সামরিক পাইলটকে জিডি পাইলট অথবা জি ডি পি পাইলট বলা হয়।

আবেদনের নিয়ম

এইচএসসি পাসের পর আবেদন করতে হয়। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে জিডিপি পোস্টের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় আর অপরদিকে সেনা আর নৌবাহিনীতে পাইলট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

শিক্ষার্থীকে এইচএসসি ও এসএসসির মাঝে যেকোনো একটি জিপিএ ৫ এবং অপরটিতে জিপিএ ৪.৫০ থাকতে হবে। আর এ লেভেলের শিক্ষার্থীদের পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতে মিনিমাম ডি গ্রেড থাকতে হবে। তাহলে আবেদন করা যাবে এ ছাড়াও

  • বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।
  • ১৬ বছর ৬ মাস থেকে ২১ বছর বয়সের মধ্যে হতে হবে।
  •  উচ্চতাঃ পুরুষ ৬৪ ইঞ্চি, নারী ৬২ ইঞ্চি ।
  •  বুকের মাপ: পুরুষ ৩২” নারী ২৮”।
  •  বুকের মাপ সম্প্রসারণ: ২”।
  • ওজনঃ বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ।
  • চোখের পাওয়ার: ৬/৬।

পাইলট হওয়ার জন্য বাছাই প্রক্রিয়া

অন্যান্য পরীক্ষা থেকে পাইলট হওয়ার জন্য বাছাই প্রক্রিয়ার পরীক্ষা অনেকটাই ব্যতিক্রম।

যেমন:

  •  লিখিত পরীক্ষা।
  •  মেডিকেল পরীক্ষা।
  •  ইন্টারভিউ।
  • ISSB বোর্ড ৪ দিন ।
  •  চূড়ান্ত মেডিকেল পরীক্ষা ।
  •  ফাইনাল সিলেকশন।

পাইলটদের মাসিক বেতন

স্বপ্নময় এই জবের রয়েছে অনেক ডিমাণ্ড এবং অর্থ উপার্জনেরও সুযোগ রয়েছে । উড়োজাহাজের একজন পাইলটের বেতন ৭৫ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকারও বেশি । একজন কো-পাইলটের বেতন ৫০ থেকে ৭০ হাজারের বেশি হয়ে থাকে। কাজের অভিজ্ঞতা ও ফ্লাইং ঘণ্টা যত বেশি থাকবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ৫ লাখের ও বেশি হয়ে থাকে । এর পাশাপাশি থাকছে দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সুযোগ, যা সম্পূর্ণ কোম্পানি বহন করে।

পাইলট যা করে থাকেন

একজন পাইলটের মূল লক্ষ উড়োজাহাজকে সুন্দরভাবে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া। পাইলটকে সব কাজ খুব সাহসী এবং বিচক্ষণতার সাথে করতে হয়।

যেমন:

  •  ফ্লাইট পরিকল্পনা তৈরি করা।
  •  নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা এবং কারিগরি দিকগুলো দেখা।
  • আবহাওয়া, ফ্লাইটের রুট ও যাত্রীসংখ্যা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা।
  •  ফ্লাইট শেষে উড়োজাহাজের লগবুক সম্পন্ন করা ।
  • প্রয়োজন অনুযায়ী ATC -এর সাথে যোগাযোগ করা
  •  ফ্লাইটে কোনো ধরনের সমস্যা হলে সাথে সাথে তা নোট করে রাখা এবং কর্তৃপক্ষকে জানানো ।
  • যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
  • প্রয়োজন অনুসারে যাত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত এবং আলাপ করা ।
  •  নিজে সুস্বাস্থ্য এবং পজিটিভ থাকার পাশাপাশি কেবিন ক্রুদের উৎসাহ উদ্দীপনা দেওয়া।

Leave a Comment