এয়ার নেভিগেশন সিস্টেম নিয়ে আজকের আলোচনা, উড়োজাহাজ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিরাপদে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় রুট পরিকল্পনা, তথ্য ধারণ, নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণ, আবহাওয়া তথ্য, উপগ্রহ তথ্যসহ উড়োজাহাজের সঠিক তথ্য-উপাত্ত, উচ্চতা, দিক ও অবস্থান। আর সব দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে এয়ার নেভিগেশন সিস্টেম পাইলটকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
উড়োজাহাজের এয়ার নেভিগেশন সিস্টেম
১. লোকালাইজার
কোনো ধরনের সমস্যা হলে এটি ইন্ডিকেটরে প্রদর্শিত হয়। যা উড়োজাহাজের রোল মুড়ের মাধ্যমে রানওয়ের মধ্যরেখা বরাবর রাখে। উড়োজাহাজকে রানওয়ের মধ্যরেখা বরাবর রাখার জন্য সঠিক সংকেত দেওয়াই হলো এর কাজ।
২. টিকাস
এই সুবিশাল আকাশেও উড়োজাহাজে উড়োজাহাজে সংঘর্ষ হয়ে থাকে। এই সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য কাজ করে টিকার্সা যা আমরা বলতে পারি, সংঘর্ষ এড়ানোর যন্ত্র । দুইটি উড়োজাহাজকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে নিরাপদে উড্ডয়নে সাহায্য করে। এ ছাড়াও উড্ডয়নগামী গতি প্রদর্শনকারী ইন্সট্রুমেন্টে নিকটবর্তী উড়োজাহাজের অবস্থান প্রদর্শন করে।
জিপিএস
মোবাইলে জিপিএস আছে, যা লোকেশন খুঁজে দেয়। ঠিক তেমনিভাবে আরও অনেক ধরনের কাজ সম্পাদন করে জিপিএস এবং প্রকৃত ব্যবহার হয়ে থাকে উড়োজাহাজেও। যা পাইলটকে উড়োজাহাজের সঠিক অবস্থান। তথ্য, উচ্চতা, সময়, ভূমির অবস্থান ও গতি মাত্রা, দ্রাঘিমাংশ দিয়ে থাকে।
প্রধানত জিপিএস সিস্টেমটি তিন ভাগে বিভক্ত যেমন:
১. নিয়ন্ত্রণ সেগমেন্ট
২. মহাকাশ সেগমেন্ট
৩. ব্যবহারকারী সেগমেন্ট
ওয়েদার রাডার
উড়োজাহাজ নিরাপদ ফ্লাইটের জন্য সঠিক আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে থাকে ওয়েদার রাডার। বিশেষ করে এই তথ্য প্রয়োজন হয় যখন পাইলট টেক অফ/ ল্যান্ডিং কিংবা ক্রুজ লেভেল উড্ডয়ন মুডে যান। যা পাইলটের সামনে থাকা ডিসপ্লেতে সুন্দরভাবে প্রদর্শিত হয়। যার ফলে পাইলট সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ।
জায়রোস্কোপ
উড়োজাহাজের সঠিক অবস্থান ও দিক নির্ণয় করে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। তাহলে, জানা যাক জায়রোস্কোপ সম্পর্কে। জায়রোস্কোপ হলো একটি অতি মাত্রায় ঘূর্ণয়মান ধাতব হুইল বা চাকা। প্রধানত জায়রোস্কোপ ব্যবহার করা হয় অটিচিউড, কম্পাস এবং টার্ন কো-অর্ডিনেটর।
জায়রোস্কোপ সাধারণত তিন ভাগে বিভক্ত
১. ভার্টিক্যাল জায়রোস্কোপ
২. ডাইরেকশনাল জায়রোস্কোপ
৩. রেট জায়রোস্কোপ
ভার্টিক্যাল জায়রোস্কোপ প্রধানত অবস্থান নির্ণয় করতে ব্যবহার করা হয় ।
ডাইরেকশনাল জায়রোস্কোপ দিক নির্ণয়ে ব্যবহার করা।
রেট জায়রোস্কোপ ঘূর্ণয়ন পারিমাপে ব্যবহৃত হয় ।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম
ট্রাফিক পুলিশ, রাস্তায় নিরাপত্তার জন্য কাজ করে থাকে। যেন মানুষ নিরাপদে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে এবং অহেতুক যানজট না হয়, সে দিকেও লক্ষ রাখে। ঠিক তেমনি আকাশে যেন উড়োজাহাজ নিরাপদে থাকে এবং সংঘর্ষ এড়াতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম কাজ করে। যা এয়ারপোর্টে বিশাল টাওয়ারের উপর থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই আমরা বলতে পারি, এয়ারপোর্টে উড়োজাহাজ নিরাপদে উড্ডয়ন ও নির্গমন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং যাত্রী, পণ্য, যানবাহনের তদারকির জন্য ব্যবহার করা হয়।
ই জি পি ডাব্লিউ এস
এটি একটি উন্নত যন্ত্রাংশ, যা সম্ভাব্য বিপদসংক্রান্ত বার্তা দিয়ে থাকে। যেমন ধরো, উড়োজাহাজের অতিমাত্রা, অবস্থান, দিক ও কোন, নিম্নমুখী, উঁচুস্থান, পাহাড় এবং কাছাকাছি বিমানবন্দরের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য। তাহলে আমরা বলতে পারি, ই জি পি ডব্লিউ এস একটি সতর্কবার্তা যন্ত্র, যা পাইলটকে সংকেত দেওয়ার মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে সতর্ক ও রক্ষা করে।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের প্রকারভেদ
কন্ট্রোলার প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত যেমন:
১. এন-রুট
২. টার্মিনাল
৩. টাওয়ার
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার টার্মিনাল গেট থেকে টার্মিনাল গেট এবং এর মাঝের সবকিছু ধাপে ধাপে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
মার্কার বিকন
এটি একটি চিহ্নিতকারী বিকন ডি এইচ এফ রেডিও ট্রান্সমিটার, যা উড়োজাহাজের অবস্থানের তথ্য সরবরাহ করে থাকে। যা তিনটি ভিন্ন রঙের আলো ও শব্দ সংকেতের মাধ্যম দ্বারা রানওয়েতে অবতরণের পয়েন্ট থেকে উড়োজাহাজ কতটুকু দূরে আছে তার সঠিক তথ্য পাইলটকে প্রদান করে ।
মার্কার বিকনের প্রকারভেদ
মার্কার বিকন তিন ধরনের। যার প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা কাজ করে থাকে। যেমন:
১. আউটার মার্কার
২. মিডেল মার্কার
৩. ইনার মার্কার
কোনো কোনো এয়ার ফিল্ডে তিনটি মার্কার বিকন থাকে, এর সাথে সবগুলোর উপস্থিতি নিশ্চিত নয় ৷ আবার কিছু কিছু এয়ার ফিল্ডে কেবল এক বা দুইটি মার্কার বিকন থাকে ।
সব মার্কার বিকন সাইনোসয়েড সিগন্যাল সংকেত ব্যবহার করে।
আউটার মার্কার ৪০০ হার্জ।
ও মিডেল মার্কার ১৩০০ হার্জ।
ইনার মার্কার ৩০০০ হার্জ।
ভি ও আর
ভি ও আর হলো গ্রাউন্ড স্টেশন। যা ৩৬০০ আকারে রেডিও সিগন্যাল প্রেরণ করে। আর উড়োজাহাজ তা রিসিভ করে এবং পাইলট উড়োজাহাজের ককপিট থেকে দেখতে পান, অবস্থান যা ইন্সট্রুমেন্টে প্রদর্শিত হয়। উল্লেখ্য, ৬০ থেকে ৬৫ নটিক্যাল মাইল পর পর ভূমিতে একটি করে ভি ও আর ষ্টেশন থাকে ।
গ্লাইড স্লোপ
পাইলট উড়োজাহাজকে কন্ট্রোল করেন যেন সঠিকভাবে অবতরণ করতে পারে। অপরদিকে গ্লাইড স্লোপ কৌণিক মান ঠিক আছে কি না, তা অটোপাইলট ডিসপ্লেতে ইন্ডিকেট করে, যার ফলে উড়োজাহাজ সঠিকভাবে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম
উড়োজাহাজ নিরাপদে উড্ডয়ন, অবতরণ, সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করার জন্য আই এল এস ব্যবহৃত হয়। যেমন: উড়োজাহাজকে রানওয়ের মধ্যরেখা বরাবর রাখতে সঠিক কোণে অবতরণ করতে, রানওয়ের অবতরণ স্থান থেকে উড়োজাহাজের দূরত্ব সংক্রান্ত তথ্য, শব্দ বা সংকেত দেওয়ার মাধ্যমে পাইলটকে জানান দিয়ে থাকে।
আইএলএস তিন ভাগে বিভক্ত:
১. গ্লাইড স্লোপ ।
২. লোকালাইজার।
৩. মার্কার বিকন।
আরও দেখুনঃ
2 thoughts on “উড়োজাহাজের এয়ার নেভিগেশন সিস্টেম”