বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (BAF) এ পর্যন্ত কতগুলো বিমান দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে—এই তথ্য নির্ভরযোগ্য হিসাব সংগ্রহ করা কঠিন হলেও, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো নিম্নরূপ:
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিমান দুর্ঘটনার সময়ক্রম:
তারিখ | বিমান/ঘটনা |
১৯৭৭ | FT‑7B ট্রেনার – Air Vice Marshal Khademul Bashar নিহত |
২৬ অক্টোবর ১৯৯৮ | F‑7MB – মধুপুরে বিধ্বস্ত |
১৭ নভেম্বর ১৯৯৮ | A‑5C (Nanchang Q‑5) – চট্টগ্রামে বিধ্বস্ত |
১৯৯৩ | দুইটি PT‑6 সংঘর্ষ – তিন পাইলট নিহত |
১৯৯৩ | FT‑5 ট্রেনার – Flight Lt. Quddus নিহত |
৮ মে ১৯৯৬ | MiG‑21 বিধ্বস্ত |
৭ জানুয়ারি ২০০১ | FT‑7B বিধ্বস্ত – Squadron Leader Mohsin নিহত |
১৯ অক্টোবর ২০০২ | Mi‑17‑200 হেলিকপ্টার – কক্সবাজারে বিধ্বস্ত, ৪ জন নিহত |
৩০ জুলাই ২০০২ | A‑5C – চট্টগ্রামে বিধ্বস্ত, Squadron Lt. Adnan নিহত |
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ | FT‑7B বিধ্বস্ত |
১৫ নভেম্বর ২০০৩ | Piper/Cessna S‑2 – জরুরি অবতরণ, নিরাপদ |
২০০৩ (ফেব্রুয়ারি) | PT‑6 – বিধ্বস্ত, আহত/নিহত নির্দিষ্ট নয় |
৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ | PT‑6 ট্রেনার – বিধ্বস্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত |
৭ জুন ২০০৫ | F‑7MB – উত্তরা, ফ্ল্যাটে বিধ্বস্ত, ৬ জন আহত |
২৪ এপ্রিল ২০০৬ | PT‑6 – কোটচাঁদপুরে বিধ্বস্ত, Flight Cadet Tanjul মৃত্যু |
৯ এপ্রিল ২০০৭ | PT‑6 – যশোরে বিধ্বস্ত, Flight Cadet Faisal নিহত |
৮ এপ্রিল ২০০৮ | F‑7MB – টাঙ্গাইল, Squadron Leader Morshed Hasan নিহত |
১৬ জুন ২০০৯ | FT‑6 – কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম বিধ্বস্ত |
২২ অক্টোবর ২০০৯ | PT‑6 – বগুড়া বিধ্বস্ত |
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১০ | PT‑6 – কর্ণফুলী নদীতে বিধ্বস্ত |
২০ ডিসেম্বর ২০১০ | PT‑6 – বরিশালে বিধ্বস্ত, Squadron Leaders নিহত |
২০১০ | F‑7MB – পতেঙ্গায় বিধ্বস্ত |
৮ এপ্রিল ২০১২ | L‑39 – মধুপুরে বিধ্বস্ত, Flight Lt. Reza Sharif নিহত |
২৬ এপ্রিল ২০১২ | PT‑6 – ভারতে ক্র্যাশ‑ল্যান্ড, পাইলট নিরাপদ |
২০ মে ২০১৩ | L‑39 – যশোরে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে |
১৪ জুলাই ২০১৩ | Nanchang A‑5 – বিধ্বস্ত |
৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ | PT‑6 – Jessore‑এ belly landing |
৩০ এপ্রিল ২০১৪ | PT‑6 – বিধ্বস্ত |
১৩ মে ২০১৫ | Mi‑17SH – শাহ আমানতে বিধ্বস্ত, ১ প্রশিক্ষক নিহত |
২১ জুলাই ২০১৫ | Mi‑17SH – মিরসরাই জরুরি অবতরণ |
২৯ জুন ২০১৫ | F‑7MB – পতেঙ্গা, Flight Lt. Tahmid নিহত |
১১ জুলাই ২০১৭ | Yak‑130 – চট্টগ্রামে বিধ্বস্ত, পাইলটরা ইজেক্ট |
২৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | Yak‑130 ×2 – কক্সবাজারে মাঝ আকাশে সংঘর্ষ |
২ জানুয়ারি ২০১৮ | Mi‑17 – শ্রীমঙ্গল, কুয়েতি প্রতিনিধি সহ, সবাই নিরাপদ |
১ জুলাই ২০১৮ | K‑8W – যশোরে বিধ্বস্ত, দুই পাইলট নিহত |
২৩ নভেম্বর ২০১৮ | F‑7BG – টাঙ্গাইল, রকেট ফায়ারিং অনুশীলনে বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত |
৯ মে ২০২৪ | Yak‑130 – কর্ণফুলী নদী, Squadron Leader Asim Jawad নিহত |
২১ জুলাই ২০২৫ | FT‑7BGI – উত্তরায় স্কুলে বিধ্বস্ত |
কি ধরণের বিমান, কতবার:
বিমান/হেলিকপ্টারের ধরণ | দুর্ঘটনার সংখ্যা | মন্তব্য |
F-7BG / F-7MB | ১০+ | বেশিরভাগই প্রশিক্ষণ বা রুটিন উড্ডয়নের সময় দুর্ঘটনা |
MiG-29 | ১ | ২০০২ সালে, দুটি MiG-29 বিমান মুখোমুখি সংঘর্ষে বিধ্বস্ত |
YAK-130 | ২ | ২০১৭ ও ২০১৮ সালে, প্রশিক্ষণ চলাকালে বিধ্বস্ত |
PT-6 (Basic Trainer) | ৪+ | বেশিরভাগই শিক্ষানবিস পাইলটদের প্রশিক্ষণের সময় |
L-39ZA (Trainer) | ২ | ২০০৮ ও ২০১৯ সালে |
C-130 Hercules | ১ | ২০২২ সালে চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণে ক্ষতিগ্রস্ত |
Bell 206 / 212 | ৩+ | হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা, সেনা সদস্য পরিবহনের সময় |
Mi-17 Helicopter | ৩+ | পার্বত্য অঞ্চলে / প্রশিক্ষণকালীন দুর্ঘটনা |
An-24 / Antonov | ১ | ১৯৯১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে দুর্ঘটনা |
মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা (প্রায়): ২৫-৩০টির বেশি, যার মধ্যে বেশ কিছু প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
উৎস: উপরের তথ্যসমূহ বিভিন্ন উন্মুক্ত উৎস (সংবাদপত্র, BAF বার্ষিক প্রতিবেদন, ওয়ার অন দ্য রক্স, উইকিপিডিয়া এবং মিডিয়া রিপোর্ট) থেকে সংগৃহীত ও সংকলিত হয়েছে।
কারিগরি কারণসমূহ:
ক্র. | বিমান মডেল | মোট দুর্ঘটনা | তদন্তে উল্লিখিত কারিগরি কারণসমূহ |
১ | F-7 (F-7BG, F-7MB) | ১১ | ইঞ্জিন ফেল, হাইড্রোলিক সিস্টেম ব্যর্থতা, যান্ত্রিক ত্রুটি, অবতরণ কালে টেকনিক্যাল গ্লিচ |
২ | MiG-29 | ২ | সিমুলেটেড লো-স্পিড ইঞ্জিন ফেল, মেইনটেনেন্স ত্রুটি |
৩ | Yak-130 | ১ | ইঞ্জিন গ্লিচ (পর্যবেক্ষণে) |
৪ | PT-6 | ২ | ইঞ্জিন স্টল, কন্ট্রোল লস |
৫ | L-39 ZA Albatros | ১ | ওভারহিট ইঞ্জিন/ ইঞ্জিন কুলিং ফেইল |
৬ | Chengdu FT-6 | ১ | রাডার/কমিউনিকেশন লস, ইঞ্জিন স্টল |
৭ | Fouga CM.170 Magister | ১ | পাইলট ডিস-অরিয়েন্টেশন (কারিগরি ব্যর্থতা নয়) |
৮ | Aero L-39ZO | ১ | সম্ভাব্য কারিগরি ত্রুটি (বিশ্লেষণ অনির্ধারিত) |
মোট দুর্ঘটনা (উল্লেখযোগ্য): ২০+
কিছু ঘটনা রিপোর্টে ধোঁয়াশা থাকায় বা তদন্ত প্রকাশ না হওয়ায় সর্বমোট সংখ্যা অনুমানভিত্তিক এবং কিছু অঘোষিত দুর্ঘটনা বাদ পড়তে পারে।
উল্লেখ্য:
- অধিকাংশ F-7 দুর্ঘটনায় পাইলট ইজেক্ট করতে বাধ্য হন ইঞ্জিন ফেইল বা কন্ট্রোল লসের কারণে।
- MiG-29 এর ক্ষেত্রে সীমিতভাবে অপারেশনাল থাকার কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা কম হলেও ইঞ্জিন রিডান্ডেন্সি সমস্যার কথা উঠে আসে।
- ট্রেইনার বিমান PT-6 এবং Yak-130 তে নবীন পাইলট প্রশিক্ষণের সময় যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
???? রেফারেন্স
- Wikipedia – Bangladesh Air Force: https://en.wikipedia.org/wiki/Bangladesh_Air_Force
- Wikipedia – 2025 Dhaka fighter jet crash: https://en.wikipedia.org/wiki/2025_Dhaka_fighter_jet_crash
- The Daily Star – “15 dead in many training flight crashes in 20 years”: https://www.thedailystar.net/news/bangladesh/accidents-fires/news/15-dead-many-training-flight-crashes-20-years-3944626
- The Daily Star Archive (2005): https://www.thedailystar.net/2005/06/08/d5060801011.htm
- Wikipedia – History of aviation in Bangladesh: https://en.wikipedia.org/wiki/History_of_aviation_in_Bangladesh
- BAAA Aviation Safety Database – https://www.baaa-acro.com/country/bangladesh