৩২,৬৫০ কোটি টাকা উন্নয়ন খরচ ৮ টি বিমানবন্দরের

দেশের বাণিজ্যিক বিমান চলাচল অবকাঠামোর উন্নয়নে সরকার প্রায় ৩২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে, যা পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের চেয়েও বেশি। এই বিপুল ব্যয়ে ৮টি বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে এসব উন্নয়ন প্রকল্পের বেশিরভাগই সম্পন্ন হবে এবং ধাপে ধাপে চালু হবে নতুন সুবিধাসমূহ।

৩২,৬৫০ কোটি টাকা উন্নয়ন খরচ ৮ টি বিমানবন্দরের

 

৩২,৬৫০ কোটি টাকা উন্নয়ন খরচ ৮ টি বিমানবন্দরের

 

বিমানবন্দর উন্নয়নের আওতায় যা যা থাকছে:

  • হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (HSIA) তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ

  • কক্সবাজার বিমানবন্দরে দেশের দীর্ঘতম রানওয়ের সম্প্রসারণ

  • ৬টি বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ

  • কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি

  • গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন

এই প্রকল্পসমূহের মাধ্যমে আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচলের সক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি যাত্রীসেবার মানও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে বলে মনে করছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

 

৩২,৬৫০ কোটি টাকা উন্নয়ন খরচ ৮ টি বিমানবন্দরের

 

যে কারণে উন্নয়ন জরুরি হয়ে উঠেছে:

বর্তমানে হযরত শাহজালালসহ দেশের অধিকাংশ বিমানবন্দর যাত্রীদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, লাগেজ ডেলিভারি, টার্মিনালের ভিড় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীদের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান জানিয়েছেন, ১৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৮টি বিমানবন্দরকে আধুনিকায়নের কাজ চলছে।

 

বৃহৎ প্রকল্পসমূহের হাইলাইটস:

  • হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল:

    • ব্যয়: ২১,৩৯৯ কোটি টাকা

    • অর্থায়ন: জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ৭০%

    • সুবিধাসমূহ: সর্বাধুনিক চেক-ইন সিস্টেম, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার, ফুয়েল ফার্ম, কার্গো টার্মিনাল ইত্যাদি।

    • চালু হতে পারে: ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে পরীক্ষামূলকভাবে, পূর্ণাঙ্গভাবে ২০২৫ এর প্রথমার্ধে

  • কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ:

    • ব্যয়: ১,৫৬৮ কোটি টাকা

    • কাজ: বিদ্যমান ৯,০০০ ফুট রানওয়ের সঙ্গে আরও ১,৭০০ ফুট সংযোজন

    • ফলাফল: বোয়িং ৭৭৭, ড্রিমলাইনারসহ বৃহৎ উড়োজাহাজ অবতরণে সক্ষমতা অর্জন

  • সিলেট ওস্মানী বিমানবন্দর:

    • রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে উন্নয়ন

    • প্রবাসীবান্ধব এই বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা ও রাতের বেলায় উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা বাড়বে

সাতটি প্রকল্প শেষ হবে ২০২৫ সালের মধ্যে

মফিদুর রহমান জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ হযরত শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, কক্সবাজার রানওয়ে, সিলেটের ট্যাক্সিওয়ে এবং বেবিচকের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া রাজশাহী, সৈয়দপুর, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরেও বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।

 

৩২,৬৫০ কোটি টাকা উন্নয়ন খরচ ৮ টি বিমানবন্দরের

 

এই বিপুল বিনিয়োগ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। সময়মতো প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে দেশের আকাশপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়।

2 thoughts on “৩২,৬৫০ কোটি টাকা উন্নয়ন খরচ ৮ টি বিমানবন্দরের”

Leave a Comment