এভিয়েশন বিষয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে আজ আমরা জানবো। বিদেশে উচ্চশিক্ষা ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে একটি লালিত স্বপ্ন কিন্তু এই স্বপ্ন অনেকাংশেই পূরণ হয় না সঠিক সিদ্ধান্ত এবং গাইড গাইডলাইন এর অভাবে। উচ্চশিক্ষার জন্য কোন দেশ ভালো হবে তা নির্ধারণ করার জন্য অনেকগুলো ব্যাপার বিবেচনা করতে হয়। প্রথমতো সে দেশের ভার্সিটিগুলো র্যাঙ্কিং, স্কলারশিপ, জীবন যাত্রার মান, আবওহাওয়া, চাকুরি ইত্যাদি বিষয়।

এভিয়েশন বিষয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা
দেশের বাহিরে উচ্চশিক্ষার জন্য যাবার পূর্বে নিজেকে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে হবে যেমন:
১. প্রথমত পরীক্ষার ফলাফল ভালো হতে হবে
২. ইংরেজিতে দক্ষতা থাকতে হবে।
৩. চীন, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স- এসব দেশে যেতে চাইলে সেসব দেশের ভাষাটা শিখে নেওয়া ভালো হবে।
৪. শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সার্টিফিকেট ইংরেজি করে নিতে হবে।
৫. পাসপোর্টে যেন কোনো সমস্যা না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
৬. GRE, SAT, GMAT, IELTS/UKVI IELTS, TOFEL, PTE, OET- এর সকল টেস্টে স্কোর যতটা সম্ভব ভালো করতে হবে।
৭. বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি এবং থাকা-খাওয়ার জন্য কত টাকা লাগবে সে বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে।
৮. পার্ট টাইম জবের জন্য ইউনিভার্সিটির সিনিয়র কিংবা প্রফেসর দের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে।

শিক্ষাবৃত্তি প্রদানকারী সংস্থা
শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রদানকারী সংস্থাগুলো শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, বাসস্থান ও স্বাস্থ্য বীমা খরচ বহন করে থাকে।
- এডেডার পোস্ট পোস্টগ্রাজুয়েট অ্যাওয়ার্ডস (অস্ট্রেলিয়া)।
- যৌথ জাপান বিশ্ব ব্যাংক গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ (গ্লোবাল)।
- সুইডিশ ইন্সটিটিউশন স্টাডি স্কলারশিপ (সুইডেন)।
- কমনওয়েলথ মাস্টার্স স্কলারশিপ (যুক্তরাজ্য)।
- আইফেল এক্সেলেন্স স্কলারশিপ (ফ্রান্স)।
- শেভেনিং স্কলারশিপ (যুক্তরাজ্য)।
- ফুলব্রাইট স্কলারশিপ (যুক্তরাষ্ট্র)।
- ইরাসমুস মুন্ডুস (ইউরোপ)।
উচ্চশিক্ষার জন্য সেরা কয়েকটি দেশ:
যুক্তরাজ্য
নিউটনের মতো মহা বিজ্ঞানীদের জন্মভূমি যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের ভার্সিটিগুলো ব্রিটিশদের হারানো গৌরবের সাক্ষী হয়ে আজও বিশ্ব র্যাঙ্কিং এ রাজত্ব করছে।
১. অনেক বাংলাদেশী থাকায় মনে হবে এক টুকরো বাংলাদেশ।
২. নিরাপত্তা ও শৃংখলার দিক দিয়ে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ ভালো।

যুক্তরাষ্ট্র
পড়াশোনা, রিসার্চ, ক্যারিয়ার, এন্টারপ্রেনারশিপ সব দিক দিয়ে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রে যেমন: এমআইটি, হার্ভার্ড আর স্ট্যানফোর্ড।
১. পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ছাত্রছাত্রী থাকায় সহজেই মানিয়ে নেয়া যায়।
২. বিশ্বের সব দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের ডিগ্রীর মূল্যায়ন করা হয়।
৩. আবহাওয়া বেশ ভালো।
কানাডা
শিক্ষার্থীদের সেকেন্ড হোম নামে পরিচিত কানাডা। কানাডায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা কম হলেও অনেক ভালমানের বিশ্ববিদ্যালয় আছে।
১. কানাডায় নাগরিকত্ব পাওয়া তুলনামূলক সহজ ও কম সময়েই পাওয়া যায়।
২. পড়াশোনা শেষে সহজেই চাকরি পাওয়া সম্ভব।

জাপান
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে জাপান অনেক এগিয়ে ঠিক তেমনিভাবে জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিউএস র্যাঙ্কিং ভালো অবস্থানে আছে ।
১. জাপানের কোম্পানিগুলো পৃথিবীর অন্যতম সেরা হওয়ায় সহজেই চাকরি পায় গ্রাজুয়েটরা।
২. গবেষণার জন্য জাপানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং কোম্পানিগুলো অনন্য ভূমিকা রাখছে।
৩. জাপানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য জগদ্বিখ্যাত।
জার্মানি
শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রাখায় জার্মান পৃথিবীতে অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নামমাত্র টিউশন ফি নিয়ে থাকে। এছাড়াও রয়েছে শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার সুযোগ। গবেষণাকে ক্যারিয়ার হিসেবে গড়তে চাইলে জার্মান একটি স্বপ্নের নাম হতে পারে।
১. নিরাপত্তা ও শৃংখলার দিক দিয়ে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ ভালো।
২. পড়াশোনা ও থাকা খাওয়ার খরচ তুলনামূলক কম।
চায়না
তথ্যপ্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পৃথিবীর উদীয়মান শক্তি হলো চায়না। ইতিমধ্যে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রছাত্রীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশে পরিণত হয়েছে। চায়নাতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী হওয়ার কারণ হলো উন্নতমানের শিক্ষাব্যবস্থা, স্কলারশিপ এর সহজ প্রাপ্তি, তুলনামূলক কম এডমিশন রিকোয়ারমেন্টস, ইত্যাদি৷ এছাড়াও খুব সহজেই ফুলি ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে৷ থাকা খাওয়ার খরচ ইউরোপ আমেরিকার তুলনায় খুবই কম, কিন্তু জীবনযাত্রার মান তাদের কাছাকাছি। গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের পারে স্বর্গরাজ্য হতে পারে।

Hi, this is a comment.
To get started with moderating, editing, and deleting comments, please visit the Comments screen in the dashboard.
Commenter avatars come from Gravatar.