আজকের আলোচনার বিষয় কীভাবে কেবিন ক্রু হবে, কেবিন ক্রু: নীল আকাশ ঘুরে বেড়ানো আর পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উড়োজাহাজের ডানায় চড়ে বেড়াতে কে না চায়। যদি সেটি হয় বিনা খরচে এবং সঙ্গে ভালো অঙ্কের স্যালারি, অনেকের কাছে এটি একটি স্বপ্ন। আর এ পেশায় চাকরি করছে বাংলাদেশি অনেক ছেলেমেয়ে । চলো জানা যাক, কেবিন ক্রু হওয়ার জন্য কী কী যোগ্যতা প্রয়োজন।

কীভাবে কেবিন ক্রু হবে
কেবিন ক্রু হওয়ার যোগ্যতা
- পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন ও মেধাবী হতে হবে।
- সুন্দর করে কথা বলা জানতে হবে এবং বাংলা ও ইংরেজি বলতে, লিখতে ও বুঝতে হবে ।
- সর্বনিম্ন এসএসসি বা এ লেভেল পাস হতে হবে ।
- বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- উচ্চতা মেয়েদের ৫ ফুট আর ছেলেদের ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি হতে হবে ।
- শারীরিক গঠন সুন্দর ও সুদর্শন হলে ভালো কিন্তু ফরসা যে হতেই হবে এমনটা নয় ।
বেতন
একজন কেবিন ক্রুর ক্যারিয়ার খুবই সম্মানজনক এবং রয়েছে অনেক সুযোগ- সুবিধা। ক্যারিয়ারের শুরুতে সর্বনিম্ন ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন। অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনেকের ৬ ডিজিটের বেশিও বেতন হয় ।
কেবিন ক্রুর দায়িত্ব
- যাত্রীদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা সুনিশ্চিত করা।
- উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দেওয়া।
- জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীদের সাহস দেওয়া ও জরুরি ইকুইপমেন্ট এবং ফাস্টেড বক্স আগে থেকেই ঠিক করে রাখা।
- যাত্রীদের আসন দেখিয়ে দেওয়া এবং সিটবেল্ট লাগাতে সহায়তা করা • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন খাবার দেওয়া এবং যাত্রীদের লাগেজ সিটে পৌঁছে দেওয়া
- উপরোক্ত কাজগুলো সম্পন্ন করলে এয়ারলাইন্স কোম্পানির ব্র্যান্ডিং বেড়ে যাবে ঠিক তেমনিভাবে কেবিন ক্রুর ব্যক্তিত্বের প্রকাশ পাবে।
Hierarchy of Cabin Crew
- Cabin Service Director (Bigger Aircrafts / long Hauls)
- Purser/ Inflight Manager/ Check Hostess/ Inflight Supervisors
- Grade One crew
- Grade Two crew
- Air Hostess / Stewards (if there is no grading)
- Trainees
All Cabin Crew reports to their Base Manager headed by the Head Inflight at the base station.

ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট অ্যানাউন্সমেন্ট (Flight Attendant Announcement)
ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ভ্রমণকালীন সময়ে আপনার নিরাপত্তায় আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। তাই এই বিমানের নিরাপত্তা বিষয়ক নির্দেশাবলী প্রতি আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করছি। যখনেই সিট বেল্ট সংকেত জ্বলে উঠবে, তখনেই সিট বেল্টটির প্লেট এবং বাকল আটকে দিন এবং সুবিধা মত শক্ত করে বেঁধে নিন।
খুলবার সময় বাকলের উপরের প্লেটটি তুললেই সিট বেল্ট খুলে যাবে। জরুরি অবস্থায় অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে উপরের সিলিং থেকে আপনা আপনি অক্সিজেন মুখোশ নিচে নেমে আসবে, সঙ্গে সঙ্গে একটি মুখোশ টেনে নিবেন। মুখোশটি নাক ও মুখের উপর চেপে ধরে স্বাভাবিকভাবে নিঃশ্বাস নিন এবং এই ইলাস্টিক ব্যান্ডটি টেনে মাথার সঙ্গে সুবিধামতো ঠিক করে নিন।
তারপর প্রয়োজনে আপনার পাশের যাত্রীকে সাহায্য করুন। জরুরি অবস্থায় পানিতে অবতরণের প্রয়োজন হলে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করতে হবে। আপনার লাইফ জ্যাকেটটি এক্সেকিউটিভ ক্লাসের দুই সিটের হাতলের নিচের অংশে এবং ইকনোমিক ক্লাসের সিটের নিচে রাখা আছে । শিশুদের জন্য লাইফ জ্যাকেট ক্রগণ প্রয়োজনে বিতরণ করবেন। তবে কেবিন ক্র নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত জ্যাকেটটি বের করবেন না।
জ্যাকেটটি মাথার ওপর দিয়ে পড়ে স্ট্র্যাপে দুটো ভালোভাবে টেনে বেঁধে নেবেন। জ্যাকেট বাতাস ভরার জন্য লাল বোতাম ধরে সজোরে নিচের দিকে টানতে হবে, নল দিয়ে ও জ্যাকেটে বাতাস ভরা যায়। পানির সংস্পর্শে এলেই বাতি জ্বলে উঠবে, ক্রু নির্দেশমতো বিমান থেকে বের হওয়ার মূহূর্তেই জ্যাকেট বাতাস ভরে নিতে হবে। বিমানের সকল জরুরি নির্গমন পথ পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করা আছে।

আপনার নিকটতম নির্গমন দরজা দেখে নিন প্রতিটি নির্গমন দরজায় স্লাইড ও রাষ্ট্র অথবা সংযুক্ত রয়েছে। জরুরি অবতরণের পূর্ব মুহূর্তে প্রয়োজনে ব্রেস্ট পজিশনে যেতে হবে। বিমানের সকল জরুরি নির্গমন পথ পরিষ্কার ভাবে চিহ্নিত করা আছে। সেই পথ অনুসরণ করে বিমান থেকে বের হতে হবে। আপনার হাত ব্যাগ ইত্যাদি মাথার উপরের বিনে রেখে বিনের ঢাকনাটি ভাল করে বন্ধ করে দিন।
উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় সকল প্রকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী বন্ধ রাখুন। মোবাইল ফোনের ব্যবহার সব সময়ের জন্য নিষেধ। এই জাহাজে সব সময়ের জন্য ধূমপান নিষেধ। প্রতিটি টয়লেটে স্মোক ডিটেক্টর সংযুক্ত রয়েছে। ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ উড্ডয়নের পূর্বে আপনার সিট বেল্ট বেঁধে নিন, সিটের পেছন দিক সোজা করুন।
আপনার সামনের খাবারের টেবিলটি যথা স্থানে গুটিয়ে রাখুন এবং জানালার শাটার খুলে রাখুন। নিরাপত্তা বিষয়ক আরও তথ্যের জন্য আপনার সামনের সিট পকেটে রাখা নিরাপত্তা নির্দেশাবলী ভালো করে পড়ে নিন। আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ।