গণশুনানিতে উঠে এলো ওসমানী বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির চিত্র, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাজিত বিমানবন্দরে গণশুনানি উঠে এসেছে ‘যাত্রী হয়রানির’ চিত্র। গতকাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ গণশুনানির আয়োজন করেছিলো । যাত্রী হয়রানি লাঘবসহ আরও উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সোমবার সকাল ১১টায় বিমানবন্দরের কনফারেন্স হলে এর আয়োজন করা হয়।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ এসময় উপস্থিতির তুলে ধরা অভিযোগগুলো শুনেন । গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, অন্যান্য দেশের বিমানবন্দরের মতো আমাদের দেশেও বিমানবন্দরগুলোতে উষ্ণ আতিথেয়তা লক্ষ্য করা যায়। তবে আরেকটু ভাল ব্যবহার সকলেই আশা করেন। কেননা, সবাই একজন যাত্রীর লাগেজ চেক করবেন, এটা হতে পারে না। তদারকির নামে যেন এ বিমানবন্দরে যাত্রীদের হয়রানি করা হচ্ছে।

ওসমানী বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির চিত্র উঠে এলো গণশুনানিতে
এক যাত্রী নাম গোপন রেখে বলেন, ব্রিটেনে দুই ছেলেকে নিয়ে দেশে ঘুরতে আসেন। আজ যখন বিমানবন্দরে প্রবেশ করছিলেন, তখন দারোয়ান তাদেরকে আটকে রাখেন। তখন তিনি বলেন, তাদেরকে দেখে কি যাত্রী মনে হয় না? তিনি সঙ্গে থাকার পরও তাদের হয়রানি করা হয়।
তিনি অনুরোধ জানান, বিমানবন্দরে যেন এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না হয়। সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব সভাপতি মুহিত চৌধুরী বলেন, বিমানের ভাড়া হঠাৎ করে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। উদাহরণ টেনে বলেন, ১০০ টাকার ভাড়া ১৫০ হতে পারে। তাই বলে ৩০০ টাকা হতে পারে না। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ভাড়াও তিন হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজারও হতে পারে। তাই বলে, ১০ হাজার হতে পারে না। এটা যাত্রী হয়রানির অংশ বিশেষ। এটা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ওসমানী বিমানবন্দরে এপ্রোচিংয়ে সমস্যা রয়েছে। এক যাত্রীর লাগেজ কাটার অভিযোগ পেয়েছিলাম। তবে তিনি প্রতিকার পাননি। তাছাড়া একজন বিমানযাত্রীকে কেন প্রশ্নবাণে করে জর্জরিত করা হবে?
তাছাড়া অনেকে উপস্থিত সাংবাদিক ও যাত্রীদের বলেন, বিমান বন্দরের পার্কিংস্থলে যাত্রীদের নিয়ে টানা হেঁচড়া, এমনকি অনেকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অভিযোগগুলো শুনার পর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ বলেন, বিমানবন্দরে বিভিন্ন সমস্যা ছিলো।

আনসারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল টাকা নেওয়ার, তবে এসব এখন আর নেই। তাছাড়া বিমান ল্যান্ডিং থেকে বেল্টের যে দূরত্ব সেখানে লাগেজ কাটার মতো সুযোগ নেই। পাশাপাশি মালামাল যখন বেল্টে আসে, তখন এপিবিএন সদস্যরা গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সঙ্গে গোয়েন্দা তদারকিও করা হয়। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোতে টিকিটের বেশি দাম আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিতভাবে জানাবো, যাতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেন।
1 thought on “ওসমানী বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির চিত্র উঠে এলো গণশুনানিতে”